“মায়ের উদ্দেশে গালিগালাজ করলেও ওদের ক্ষমা করে দিলাম!” মোদীর ভিডিও বার্তা ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর গালিগালাজ ও কটূক্তি করার ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার রাত ১১টা ৬ মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ধরনের কদাকার ভাষা কোনো সভ্য সমাজেই শোভা পায় না। তবে সমস্ত ক্ষোভ ও বিতর্ক দূরে সরিয়ে তিনি ওই তরুণ-তরুণীদের অর্থাৎ ‘দুষ্টু বাচ্চাদের’ মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার মূল বক্তব্য
কুরুচিকর আক্রমণের প্রতিক্রিয়া: ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যন্তর মন্তরে যা কিছু হয়েছে, তা দেশ ও দুনিয়া দেখেছে। কিছু দুষ্টু বাচ্চা নোংরা-নোংরা গালিগালাজ করেছে। এমন শব্দ প্রয়োগ করেছে যা কোনো সভ্য সমাজে শোভা পায় না। আমায় তো গালাগালি দেওয়া হয়েছেই, আমার স্বর্গীয় মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। বিষয়টি যে কতটা কদাকার ছিল, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।”

ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ: তিনি আরও বলেন, যৌবনে বা কম বয়সে ভুল-ত্রুটি হয়েই থাকে এবং সেই ভুল থেকে নিজেকে শুধরে নেওয়ার সুযোগও থাকা দরকার। একে তিনি একধরনের ‘ছেলেমানুষি’ হিসেবেই দেখছেন।

আইনি জালের পরিবর্তে সংশোধনের পথ
তরুণ প্রজন্মকে আইনি লড়াইতে না জড়িয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ওপর জোরালো জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরিষ্কার কথা, “এরা বিপথগামী বাচ্চা, আর তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদেরই দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দিয়ে, আদালতের চক্কর কাটাতে বাধ্য করে কিংবা সমাজে হেনস্থা করে আমরা পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারব না।” সমাজে ক্ষোভের বাতাবরণ তৈরি হলেও তরুণ প্রজন্মকে শাস্তি না দিয়ে ভালোবাসা ও সঠিক দিকদর্শনের মাধ্যমে শুধরে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

জিভ ও দাঁতের উপমা দিয়ে ক্ষমার বার্তা
ক্ষমার প্রকৃত অর্থ বোঝাতে একটি সুন্দর উপমা ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুলবশত জিভে কামড় লাগলে মানুষ যেমন রাগের চোটে নিজের দাঁত ভেঙে ফেলে না, তেমনই কোনো ভুলের কারণে সমাজেরও উচিত নয় নিজেদের দেশের ছেলেমেয়েদের চিরতরে পরিত্যাগ করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই আপসহীন অথচ ক্ষমাশীল বার্তা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *