‘কাউকে ছাড়ব না, মানহানির মামলা করব!’-টুলু মণ্ডলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত

বীরভূমের আলোচিত ‘পাথরসম্রাট’ হিসেবে পরিচিত টুলু মণ্ডলকে খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তাঁর বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। একসময় যিনি সাধারণ দিনমজুর হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন, মেয়ের বিয়েতে প্রায় দেড়শো কোটি টাকা খরচ করে যিনি দেশজুড়ে চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিলেন, সেই টুলু মণ্ডলের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়েছে বীরভূমের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অনুব্রত মণ্ডলের। অভিযোগ উঠছে, টুলু নাকি অনুব্রতর অত্যন্ত ঘনিষ্ট। এহেন তীব্র রাজনৈতিক চর্চা ও বিতর্কের মাঝেই অবশেষে মুখ খুললেন অনুব্রত মণ্ডল। हाल ہی میں ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে দেখা যাওয়া অনুব্রতর স্পষ্ট বক্তব্য, “সরকার ভালো কাজ করছে, পুলিশও ভালো কাজ করছে।”

টুলুর শ্যালকের বাড়ি থেকে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা ও সোনা

গত বৃহস্পতিবার টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মহম্মদবাজারে মিনারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার মতো সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই মিনার মণ্ডল একসময় রাজ্য সরকারের বাসের ড্রাইভার ছিলেন এবং বছর চারেক আগে তিনি স্বেচ্ছাবসর নেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বাস ড্রাইভারের বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি ও নগদ টাকা কীভাবে এল, তা নিয়ে এখন জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

কী বললেন অনুব্রত মণ্ডল?

টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানো ও ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন প্রসঙ্গে অনুব্রত সাফ জানিয়ে দেন, “ওর সঙ্গে আমার প্রসঙ্গ যারা তুলছে, তারা সম্পূর্ণ ভুল করছে। টুলু মণ্ডলকে গোটা বীরভূম জেলার মানুষ চেনে। সবার সঙ্গেই তাঁর পরিচয় বা যাতায়াত রয়েছে। ওর মেয়ের যখন বিয়ে হয়েছিল, এমন কোনো লোক নেই যাঁকে নেমন্তন্ন করা হয়নি। বহু সাংবাদিকও সেই বিয়েতে গিয়েছিলেন। আমার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার করা হলে আমি মানহানির মামলা করব, কাউকে ছাড়ব না।”

যদিও বীরভূম জেলার রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে গরু ও কয়লা পাচার মামলা চলাকালীন এবং তিনি যখন তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন, তখন নাকি তাঁর আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচ বহন করেছিলেন এই টুলু মণ্ডলই। তবে এই সমস্ত তথ্য এখনও পুরোপুরি অভিযোগ ও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে, এবং পুলিশি তদন্তের পরই আসল সত্য সামনে আসবে।

দিনমজুর থেকে শতকোটির মালিক হয়ে ওঠার উত্থান

একসময়ের পাথরখাদানের সাধারণ দিনমজুর টুলু মণ্ডল কীভাবে কোটিপতি হয়ে উঠলেন, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। খাদানে কাজ করার সুবাদে তিনি লরি চালকদের সঙ্গে চুক্তি করে লরিতে পাথর বোঝাই করার কাজ শুরু করেন। সেই ব্যবসার মুনাফা থেকেই ২০১০ সালে একটি পুরোনো লরি কেনেন এবং পাথর সরবরাহ শুরু করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বছর কয়েকের মধ্যে আরও কয়েকটি লরি কিনে ছোটখাটো পাথর ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে টুলু মণ্ডলের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যায় এবং তাঁর আর্থিক সাম্রাজ্য অবিশ্বাস্য গতিতে ফুলেফেঁপে উঠতে শুরু করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *