লোকসভা ভোটে লড়বে CJP? ভবিষৎ প্ল্যান জানিয়ে দিলেন অভিজিত্‍ দিপকে

প্রশ্নপত্র ফাঁস সংশোধনী বিল, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে এক্কেবারে অকপট ও খোলামেলা আলোচনা করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ‘আজ তক’-কে দেওয়া এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের যুবসমাজ নিয়ে তাঁর আগামী দিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও স্পষ্ট জানিয়েছেন।

প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল ও সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

প্রশ্নের উত্তরে অভিজিৎ দাবি করেন, বর্তমান বিলটি প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ করার চেয়ে মূলত ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপগুলির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আর্থিক সাহায্য এবং নতুন শিক্ষামন্ত্রীর নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা হলেও আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছিল। এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় নয়, বরং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে গড়ে উঠেছে।” সিবিআই (CBI)-এর অনুপস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রথম শুনানির স্থগিত হওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সরকারের ইচ্ছাশক্তি বা উদ্দেশ্য যদি দৃঢ় না হয়, তবে যতই আইন পাস করা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না।

সরকারের চাপ ও অমিত শাহকে নিয়ে হুঁশিয়ারি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১০-১২ বছরের রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে অভিজিতের মন্তব্য, “যিনি এতদিন শুধু হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে এসেছেন, দেশের ছাত্র-যুবদের চাপে আজ তাঁকেও ইনস্টাগ্রামে শিক্ষা নিয়ে ভিডিও পোস্ট করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এটি দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুব সম্প্রদায়ের একটি বিরাট জয়।” তবে একজন মন্ত্রীর পদত্যাগেই মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে বলে ভুল না ভাবার কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা বন্ধ না হলে তারা ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিজেপি প্রধান।

সোনম ওয়াংচুক ও রাহুল গান্ধীর আন্দোলন প্রসঙ্গে

সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গে অভিজিৎ জানান, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল তাঁকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ওয়াংচুকের লেখা চিঠি তাঁকে অবাক করেছিল, যেখানে তিনি লিখেছিলেন যে বাঁচতে চান বলেই অনশন ভাঙছেন। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যেতেন বলেই জানান তিনি। সোনমকে একজন ‘সাচ্চা গান্ধীবাদী’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান যে বর্তমানে তিনি লাদাখ ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির সমর্থন প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট কথা, রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করেছে, কিন্তু তাঁদের আন্দোলনে ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ এমন এসেছিলেন যাঁরা জীবনে প্রথমবার কোনো প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন।

মিমের ব্যবহার ও CJP-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রীর মিম বা ট্রোল হওয়া নিয়ে আপত্তির প্রসঙ্গে অভিজিৎ হাসিমুখেই জানান যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গালিগালাজ পছন্দ করেন না, তবে যাঁরা নিজেদের ‘বিশ্বগুরু’ বলে দাবি করেন, তাঁরা সামান্য মিমে ভয় পাচ্ছেন কেন? পুলিশের লাঠিচার্জের বিপরীতে ছাত্ররা মিমের মাধ্যমে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে হাস্যরসের এক দারুণ জবাব বলে মনে করেন তিনি।

দল গঠনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে CJP কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করবে না। এটি একটি ‘রেসপন্স গ্রুপ’ (Response Group) হিসেবে কাজ করবে, যা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন জনস্বার্থের ইস্যু তুলে ধরবে এবং দেশের যুবসমাজের কণ্ঠস্বর হয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *