রাতে বারবার বাথরুমে ছুটতে হয়? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো কোনো বড় রোগ? জানুন ‘নকচুরিয়া’র লক্ষণ

রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন, আর হঠাৎ মাঝরাত্রে প্রস্রাবের চাপে ঘুম ভেঙে গেল—এমন অভিজ্ঞতা কি প্রায়শই আপনার সঙ্গেও ঘটছে? দিনে এক-আধবার এমন হওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি প্রতি রাতে দুই থেকে তিনবার বা তার বেশি বাথরুমে ছুটতে হয়, তবে এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন! চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘নকচুরিয়া’ (Nocturia)। এটি কেবল একটি সাধারণ অস্বস্তি নয়, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বেশ কিছু গুরুতর শারীরিক জটিলতা।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণা কী বলছে?
বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা গবেষণা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’ (NIH)-এর বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গেছে, আমাদের শরীরে থাকা ‘অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন’ (Antidiuretic Hormone) সাধারণত রাতে প্রস্রাব তৈরির পরিমাণ কমিয়ে রাখে। কিন্তু বয়সের বৃদ্ধি বা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে এই হরমোনের ক্ষরণ কমে গেলে রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
পাশাপাশি, ‘আমেরিকান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (AUA)-র গবেষণা অনুযায়ী, নকচুরিয়ার প্রধানত দুটি বড় কারণ রয়েছে:
১. ডায়াবেটিস (Diabetes): রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কিডনি সেই অতিরিক্ত চিনি শরীর থেকে বের করতে অনেক বেশি জল ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পায়।
২. প্রোস্টেটের বৃদ্ধি (Enlarged Prostate): বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে গেলে তা মূত্রনালিতে চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে মূত্রথলি বা ব্লাডার পুরোপুরি খালি হতে পারে না এবং বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
অন্যদিকে, ‘স্লিপ ফাউন্ডেশন’ (Sleep Foundation)-এর তথ্য অনুযায়ী, যাঁদের রাতে তীব্র নাক ডাকার সমস্যা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের রোগ রয়েছে, তাঁদের শরীরে এক বিশেষ কেমিক্যাল তৈরি হয় যা রাতে কিডনিকে অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়ার ভুল বার্তা পাঠায়।
দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসের ফল
চিকিৎসকদের মতে, সবসময় কোনো বড় রোগ না থাকলেও দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাসের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন:
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে অতিরিক্ত পরিমাণে জল খাওয়া।
সন্ধ্যা বা রাতের দিকে বেশি করে চা, কফি বা কোল্ড ড্রিঙ্কস পান করা।
খাবারে অতিরিক্ত নুন খাওয়া অথবা সারাদিন অলস জীবনযাপন করা।
কীভাবে মুক্তি পাবেন?
সন্ধ্যার পর থেকে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস কিছুটা কমান এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে খুব বেশি জল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে যদি এই সমস্যাটি প্রায়শই হতে থাকে, তবে একে অবহেলা না করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একটি সাধারণ ব্লাড সুগার টেস্ট বা ইউরিন পরীক্ষা করালেই এর আসল কারণ ধরা পড়ে যায় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে খুব সহজেই এই কষ্টদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।