রাখির দিনেই আকাশ জুড়ে মহাজাগতিক তাণ্ডব! ব্লাড মুন ও চন্দ্রগ্রহণের ছায়ায় কি বন্ধ থাকবে উৎসব?

ভাই ও বোনের অটুট ভালোবাসার উৎসব রাখিবন্ধন। বছরের এই একটি বিশেষ দিনের জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন সকলে। তবে ২০২৬ সালের রাখিবন্ধন উৎসবটি কেবল ভালোবাসার দিন হয়ে থাকছে না, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে মহাকাশের এক অত্যন্ত বিরল ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আগামী ২৮ আগস্ট, শুক্রবার দেশজুড়ে পালিত হতে চলেছে পবিত্র রাখিবন্ধন উৎসব। আর ঠিক একই দিনে মহাকাশেই ঘটতে চলেছে বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse)।

এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভাই-বোনদের মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছে একরাশ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। গ্রহণের এই পবিত্র দিনে কি ভাইকে রাখি পরানো অনুচিত? পূজার্চনা কি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে? নাকি এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনার প্রভাবে খুশির উৎসবে কোনো অশুভ ছায়া নেমে আসবে? সাধারণ মানুষের মনে এমন নানা প্রশ্ন উঁকি দেওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।

মহাকাশবিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্টের এই চন্দ্রগ্রহণটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, যা প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে স্থায়ী হবে। ভারতীয় সময় অনুসারে, সকাল ৬টা ৫২ মিনিটে এই গ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে তা সম্পন্ন হবে। এই দীর্ঘ সময় জুড়ে পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের একটি নির্দিষ্ট অংশ পুরোপুরি ঢেকে থাকবে। ফলস্বরূপ, চাঁদের রঙ বদলে কখনো তামাটে, আবার কখনো তীব্র লালচে রূপ ধারণ করবে— যাকে চলতি ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তিম চাঁদ বলা হয়। জ্যোতিষবিদদের মতে, আকাশমণ্ডল যখন এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে, তখন চন্দ্রদেব অবস্থান করবেন কুম্ভ রাশি এবং শতভিষা নক্ষত্রে।

রাখি উৎসবে কি কোনো বাধা আসবে?
এটাই এখন সকলের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে ভারতীয় বোনদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিরাট স্বস্তির খবর! জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্টের এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে খালি চোখে বা দৃশ্যমানভাবে দেখা যাবে না। এটি মূলত আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং আটলান্টিক মহাসাগর সংলগ্ন বিভিন্ন দেশ থেকেই দৃশ্যমান হবে।

হিন্দু ধর্মশাস্ত্র ও জ্যোতিষ নিয়মানুসারে, কোনো গ্রহণ যদি নির্দিষ্ট কোনো দেশ থেকে দৃশ্যমান না হয়, তবে সেই দেশে তার কোনো ‘সূতক কাল’ (Sutak Kaal) বা অশুভ প্রভাব কার্যকরী হয় না। তাই ভারতের ক্ষেত্রে ভয়ের বা উদ্বেগের বিন্দুমাত্র কোনো কারণ নেই। এই চন্দ্রগ্রহণের কারণে এ দেশের রাখি উৎসবে এতটুকুও বাধা আসবে না। উৎসবের দিন সকাল থেকেই বোনেরা নির্ভয়ে আনন্দে মেতে উঠতে পারেন, ভাইকে পরম যত্নে মিষ্টিমুখ করাতে পারেন, কপালে তিলক কেটে হাতে রাখি বাঁধতে পারেন। প্রচলিত সমস্ত শুভ নিয়ম-কানুন ও আচার-অনুষ্ঠান একেবারে স্বাভাবিকভাবেই পালন করা যাবে।

মাথায় রাখতে হবে ভাদ্রকালের সময়:
চন্দ্রগ্রহণের অশুভ প্রভাব থেকে দেশ মুক্ত থাকলেও, পঞ্জিকা মতে আরও একটি বিশেষ বিষয়ের দিকে নজর রাখা জরুরি। সেটি হলো ‘ভদ্রাকাল’। সনাতন ধর্মে যেকোনো শুভ বা পবিত্র কাজ সম্পন্ন করার সময় ভদ্রাকালকে অত্যন্ত অশুভ সময় বলে গণ্য করা হয়। তাই গ্রহণ কোনো ঝামেলা না পাকালেও, রাখি বাঁধার সঠিক তিথি ও লগ্ন যাচাই করে ভদ্রাকালের সময়টি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশিষ্ট জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *