অ্যালকোহলে সায়ানাইড মিশিয়ে খুন! স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় আছেন বলে ২ বছর ধরে চলত নাটক, শেষমেশ ভাইয়ের এক প্রশ্নেই ফাঁস ভয়ংকর সত্য!

গুজরাটের জামনগর থেকে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং এক শীতল মাথার ষড়যন্ত্রের ভয়াবহ কাহিনী সামনে এসেছে, যা শিহরিত করেছে গোটা দেশকে। পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় স্বামীকে সুকৌশলে হত্যা করে স্ত্রী এবং তার প্রেমিক। শুধু তাই নয়, খুনের পর মৃতদেহ গায়েব করতে ১২ থেকে ১৫ ফুট গভীর গর্তে পুঁতে ফেলার পাশাপাশি স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় আছেন বলে টানা দুই বছর ধরে এক নিখুঁত মিথ্যা নাটক চালিয়ে যায় অভিযুক্ত স্ত্রী।
কীভাবে ঘটেছিল এই হত্যাকাণ্ড?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী পৃথ্বী নীলেশ মনসুখভাই কাচেটিয়া ও নীলেশ নামের এক যুবকের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তাদের এই সম্পর্কের মাঝখানে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পৃথ্বীর স্বামী জিগনেশ। আর এই কাঁটা সরাতেই দুজনে মিলে ছকে এক ভয়ংকর পরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অ্যালকোহলের সঙ্গে সায়ানাইড মিশিয়ে বিষপ্রয়োগ করা হয় জিগনেশকে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর অপরাধ ঢাকতে দারেদ এলাকার একটি ভাড়া করা কারখানার মেঝেতে ১২ থেকে ১৫ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে জিগনেশের মৃতদেহ পুঁতে ফেলা হয়।
‘স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় আছেন’—দুটি বছর ধরে চলা মিথ্যা গল্প
স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বিভ্রান্ত করতে এক ধূর্ত ছক কষেছিল পৃথ্বী। পরিবারের লোকজন জিগনেশের খোঁজ নিলেই সে সাফ জানিয়ে দিত যে কাজের সূত্রে জিগনেশ অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে। পরিবারের কেউ স্বামীর ফোন নম্বর চাইলে সে অজুহাত দিত যে, জিগনেশ যে কোম্পানিতে কাজ করেন সেখানে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। এই গোয়েবলসীয় মিথ্যার জাদুতে দীর্ঘ দুই বছর ধরে শ্বশুরবাড়ি তথা গোটা পরিবারকে অন্ধকারে রেখেছিল ওই নারী।
শালাবাবুর একটি প্রশ্নই ফাঁস করে দিল সব
এই লোমহর্ষক ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হয় যখন মৃত জিগনেশের ভাই অশোক ধর্মেশভাই মাভাদিয়া নিজে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অশোক তাঁর দাদাকে অবাক করতে পৃথ্বীকে জানান যে তিনিও অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন এবং জিগনেশের কোম্পানির ঠিকানা ও বিশদ বিবরণ যেন তাঁকে দেওয়া হয়। এই কথা শোনার পরেই ঘাবড়ে গিয়ে নানা টালবাহানা ও অজুহাত শুরু করে পৃথ্বী।
অশোকের মনে গভীর সন্দেহের বীজ বপন হয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁর স্ত্রী তথা দাদীর আচরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং তিনি সোজা পুলিশের শরণাপন্ন হচ্ছেন। পুলিশের নাম শুনতেই ভয়ে ভেঙে পড়ে পৃথ্বী। সে স্বীকার করে নেয় যে, ঠিক দুই বছর আগেই সে ও তার প্রেমিক মিলে জিগনেশকে খুন করেছে।
কঙ্কাল উদ্ধার ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার পরই অভিযুক্তদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কড়া নিরাপত্তায় দারেদ এলাকার সেই কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। এরপর প্রায় ১২ থেকে ১৫ ফুট গভীর মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ জিগনেশের দেহাবশেষ বা কঙ্কাল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ হত্যা এবং তথ্য-প্রমাণ লোপাটের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।