বুকে-পিঠে ‘২০ গদ্দারের’ পোস্টার ঝুলিয়ে সংসদ চত্বরে তাণ্ডব কল্যাণের! প্রিয়াঙ্কার সামনেই কোন বিস্ফোরক অতীত ফাঁস করলেন?

দিল্লির সংসদ ভবনের সামনে ফের এক নাটকীয় ও বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার অন্দরে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা ২০ জন সাংসদের ছবি বুকে ও পিঠে ঝুলিয়ে সংসদ চত্বরে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন ৬৮ বছর বয়সি এই প্রবীণ সাংসদ। সেই অবস্থাতেই তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। দুই নেতার সেই কথোপকথনে উঠে এল রাজীব গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেস ত্যাগ এবং বাংলার রাজনীতির বহু পুরোনো ও সংবেদনশীল অধ্যায়।

‘২০ জন গদ্দার’-এর পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ
দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদদের সরাসরি ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়েই অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নেন কল্যাণ। লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে অন্তত ২০ জন সাংসদ আলাদা হয়ে গিয়ে ‘এনসিপিআই’ (NCPI) নামক পৃথক দল গঠন করেছেন এবং বর্তমানে কেন্দ্রের এনডিএ (NDA) জোটকে সমর্থন জানাচ্ছেন। ওই বিতর্কিত পোস্টারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব (দীপক অধিকারী), সায়নী ঘোষ, পার্থ ভৌমিক সহ ওই বিদ্রোহী সাংসদদের ছবি সাঁটানো ছিল।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে সংসদ চত্বরে আয়োজিত এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে এই বিদ্রোহী সাংসদরা যোগ দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন কল্যাণ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পাঁচ সপ্তাহ আগেই বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে পিটিশন জমা দিয়েছি। অথচ এখনও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। অবশ্য বিজেপি রাজত্বে তো সবই সম্ভব!”

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে বিস্ফোরক কথোপকথন
কল্যাণ যখন সাংবাদিকদের সামনে পোস্টারটি ঘুরিয়ে তার কার্যকারিতা দেখাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে এসে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি কল্যাণকে মনে করিয়ে দেন যে, কংগ্রেস দল থেকেও অতীতে কিছু সাংসদ তৃণমূলে গিয়ে পরে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন।

এর তীব্র পাল্টা দিয়ে কল্যাণ সোজাসাপ্টা জানান, “ওরা তো আমাদের টিকিটে জিতে তবেই সংসদে এসেছিল। ২০১৪ সালেও বাংলায় আপনাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, এখনও নেই। তাই ওরা আপনাদের টিকিটে জিততে পারত না।”

তর্কে নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব যোগ দিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করলে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ইতিহাসের পাতা উল্টে কল্যাণ বলেন, “আমিও একসময় কংগ্রেসে ছিলাম, যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ছিলাম। কিন্তু ১৯৯৭ সালে আপনারা মমতা দিদিকে দল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। যদি দিদিকে দল থেকে না বের করতেন, তবে আজকে কংগ্রেসকে এই চরম দুর্দশার মুখোমুখি হতে হত না।”

কল্যাণের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জানান যে, কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত সম্মানের চোখেই দেখা হতো এবং তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাজীব গান্ধী তাঁকে ভীষণ শ্রদ্ধা করতেন। প্রিয়াঙ্কার এই কথায় আংশিক সম্মতি জানিয়ে কল্যাণও স্বীকার করেন যে রাজীবজি দিদিকে সত্যিই ভালোবাসতেন এবং সম্মান করতেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে, বামেদের সঙ্গে হাত মেলানোর ফলেই বাংলায় কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছিল।

বিতর্কিত পোস্টার গলায় ঝুলিয়েই হাসিমুখে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা চালিয়ে যান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই ঘটনার জেরে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে যে নতুন করে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *