“শুধু শাস্তির ভয় দেখালে চলবে না!” নতুন বিল নিয়ে কেন্দ্রকে সোজাসাপ্টা নিশানা সোনম ওয়াংচুকের!

পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরাতে সংসদে নতুন আইন বা বিল আনাকে স্বাগত জানালেও, কেন্দ্র সরকারকে একহাত নিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কেবল পরীক্ষা নেওয়ার নিয়মকানুন কড়া করে বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়; এর জন্য দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ভিতর থেকে উন্নত ও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে, নিট (NEET) আন্দোলনকারী তরুণ তুর্কিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং সরকারের দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বন্দে ভারতের প্রশংসায় ওয়াংচুক, সঙ্গে মোদী সরকারের প্রতি কড়া বার্তা
দিল্লি থেকে শ্রীনগরগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চেপে বাড়ি ফেরার পথে নিজের প্রথম অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে আপ্লুত হতে দেখা যায় সোনম ওয়াংচুককে। ভিডিওবার্তায় ভারতীয় রেলের পরিকাঠামোর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব ব্রিজের (Chenab Bridge) কথা। তাঁর মতে, এই ধরনের বিশাল পরিকাঠামোগত অগ্রগতি ভারতের সামগ্রিক উন্নতিরই প্রতীক।
তবে রেলের প্রশংসার পাশাপাশি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ভিডিওর ক্যাপশনে ওয়াংচুক লেখেন, “ভারতীয় রেলের অগ্রগতি দেখে আজ আমার গর্ব হচ্ছে। আমি চাই দেশের সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়েও যেন একই রকম গর্ব করতে পারি…”
জেন-জি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি
সম্প্রতি নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া টানা আন্দোলনে সম্মুখসারিতে অংশ নিয়েছিলেন ওয়াংচুক। আন্দোলন চলাকালীন পুলিশি পদক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আন্দোলন স্থগিত করার সময় কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)-কে লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, নিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কোনও ছাত্রছাত্রী বা বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর করা হবে না। সরকারকে সেই কথা রাখার আর্জি জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শক্তিশালী ও উন্নত ভারত গড়ে তোলার জন্য একটা সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা সবচেয়ে জরুরি। তাই তরুণ প্রজন্মের ওপর থেকে সমস্ত আইনি চাপ তুলে নেওয়া উচিত।”
টানা ২৬ দিনের অনশন ও হাসপাতাল পর্ব
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে সিজিপির ডাকে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন সম্পূর্ণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় গত ১৮ জুলাই পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেই সময়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, হাসপাতালে তাঁকে সুস্থ করার আড়ালে কার্যত বন্দি বা ‘ডিটেনশন’-এ রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীকালে শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে তাঁকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখান থেকে গত সোমবার তিনি ছাড়া পান। লাদাখ রওয়ানা হওয়ার আগে দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মারকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এই প্রবীণ আন্দোলনকারী। প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরই নিজেদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় সিজিপি। অবশেষে দীর্ঘ লড়াই ও হাসপাতাল পর্ব পেরিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলেন সোনম ওয়াংচুক।