৩১ জুলাইয়ের ডেডলাইন কি পেছাচ্ছে? জেনেনিন কী সতর্কবার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞরা?

আজ ৩০ জুলাই, অর্থাৎ ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার নির্ধারিত শেষ সীমার ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে করদাতারা। এখনও অনেকেই আইটিআর ফাইল করতে পারেননি, আর তাঁদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—৩১ জুলাইয়ের ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার ডেডলাইন কি আদৌ বাড়ানো হবে? প্রতি বছরই ডেডলাইন সামনে এলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা ও গুজবের ঝড় ওঠে। এ বছরও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। তবে কর ও আর্থিক বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা—কোনো রকম গুজবের ভরসায় বসে না থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রিটার্ন ফাইল করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

জল্পনার ওপর ভরসা করবেন না: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

প্রতি বছর ডেডলাইন পেছানোর যে গুঞ্জন শোনা যায়, তা এবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। কিন্তু ট্যাক্স বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার বা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডিরেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT)-এর তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না করা পর্যন্ত ৩১ জুলাইকেই চূড়ান্ত শেষ তারিখ ধরে এগোতে হবে।

ব্যাঙ্কবাজারের সিইও আধিল শেট্টি এই প্রসঙ্গে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, গুজবের ওপর নির্ভর করে রিটার্ন জমা দিতে দেরি করা উচিত নয়। অতীতে আয়কর দফতর শুধুমাত্র বড় ধরনের প্রযুক্তিগত গ্লিচ বা বিশেষ প্রশাসনিক কারণেই ডেডলাইন বাড়িয়েছে। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এই জল্পনায় কান দেওয়া বোকামি হবে।

নবরাজ গ্লোবাল অ্যাডভাইজার্সের ট্যাক্স ও ইনভেস্টমেন্ট বিশেষজ্ঞ নিশান্ত শঙ্করও একই সুর চড়াতে গিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, চলতি মরশুমের শুরুতে আইটিআর জমার গতি কিছুটা ধীর থাকায় এবং কিছু ইউটিলিটি দেরিতে আসায় জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে ই-ফাইলিং পরিকাঠামো অনেকটাই উন্নত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। তাই সিবিডিটি বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি না করলে করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সেরে ফেলা উচিত।

ডেডলাইন মিস করলে কী কী বড় ক্ষতি হতে পারে?

নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে করদাতাদের বেশ কিছু মারাত্মক আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে:

  • জরিমানা বা লেট ফাইন: আয়ের পরিমাণ এবং দেরির ওপর ভিত্তি করে করদাতাদের সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লেট ফি বা পেনাল্টি দিতে হতে পারে।

  • সুদের বোঝা: যদি কোনো বকেয়া ট্যাক্স বা কর বাকি থাকে, তবে তার ওপর অতিরিক্ত সুদ (Interest) দিতে হবে।

  • রিফান্ডে দেরি: সময়মতো ITR ফাইল না করলে আপনার প্রাপ্য ইনকাম ট্যাক্স রিফান্ড পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

  • ভুল হওয়ার ঝুঁকি: শেষ মুহূর্তের হড়হুড়িতে রিটার্ন ফাইল করতে গিয়ে তথ্যগত ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়, যা পরবর্তীতে নোটিসের কারণ হতে পারে।

তাই শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে এবং অতিরিক্ত জরিমানা থেকে বাঁচতে আজ ৩০ জুলাইয়ের মধ্যেই আপনার ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *