পড়াশোনার পাশাপাশি শখই হল আয়ের মাধ্যম! মেদিনীপুরের তরুণীর হাতের জাদুতে বদলে গেল ভাগ্য, রোজগার শুনলে চমকে যাবেন

চিরাচরিত চেনা ছকের বাইরে গিয়ে হাতে তৈরি নানা জিনিস ও হ্যান্ডিক্রাফটের কদর বর্তমান দিনে বেশ বাড়ূপ। উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রেও এখন মানুষ বেছে নিচ্ছেন শৈল্পিক ছোঁয়া থাকা জিনিসপত্র। গ্রাহকদের এই চাহিদাকেই দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে আজ পুরোপুরি স্বনির্ভর পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ ব্লকের কেদার এলাকার বাসিন্দা স্মৃতিলেখা আচার্য্য। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এই তরুণীর সৃজনশীল ভাবনা ও উদ্যোগ এখন সকলের নজর কেড়েছে।

শখ থেকেই আয়ের নতুন দিশা
ছোটবেলায় দাদার কাছে ছবি আঁকার হাতেখড়ি হয়েছিল স্মৃতিলেখার। কলেজ পাশ করার পর বর্তমানে পেশাগতভাবে গৃহশিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, অবসর সময়কে তিনি নষ্ট হতে দেননি। নিজের শখকেই তিনি বেছে নিয়েছেন আয়ের মাধ্যম হিসেবে। ছোট মিনি ক্যানভাস থেকে শুরু করে বড় ক্যানভাস—সবক্ষেত্রেই তাঁর তুলির টান চোখ জুড়িয়ে দেওয়ার মতো।

স্মৃতিলেখা নিজের বাড়িতে বসে যা যা তৈরি করছেন:

সাদা কাগজের নিখুঁত পোট্রেট ও কাস্টমাইজড ছবি

কাচ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি চোখধাঁধানো শিল্পকর্ম

ম্যুরাল আর্ট এবং ক্লে পেন্টিং বা মাটির কাজ

ক্লে বা মাটি দিয়ে তৈরি সুন্দর সব হ্যান্ডমেড জুয়েলারি

বাজারে তুঙ্গ চাহিদা
গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী কাস্টমাইজড উপহার সামগ্রী তৈরি করে দেওয়ার সুবাদে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও তাঁর তৈরি জিনিসগুলির চাহিদা ব্যাপক। আকার ও ধরন অনুযায়ী প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট দাম রয়েছে এবং এই কাজ থেকেই বর্তমানে তাঁর বেশ ভালো মাত্রায় মাসিক রোজগার হচ্ছে।

পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের প্রতিভাকে সম্বল করে ঘরে বসেই যেভাবে আর্থিক স্বাবলম্বী হয়েছেন স্মৃতিলেখা, তা শুধু তাঁর নিজের জীবনই বদলায়নি, বরং সমাজের অন্যান্য যুবক-যুবতীদের কাছেও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *