আয়ুর্বেদ-ইউনানি চিকিৎসকদের ‘ভুয়ো’ বা ‘কোয়্যাক’ বললেই কড়া শাস্তি! নির্দেশিকা প্রকাশ কমিশনের!

আয়ুর্বেদ, ইউনানি, সিদ্ধ ও সোয়া-রিগপার মতো ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির ডাক্তারদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অপমানের অবসান ঘটাতে এবার কঠোর অবস্থান নিল ন্যাশনাল কমিশন ফর ইন্ডিয়ান সিস্টেম অব মেডিসিন (NCISM)। এতদিন ধরে এই ব্যবস্থার চিকিৎসকদের একাংশের তরফে ‘কোয়্যাক’ বা ‘ভুয়ো ডাক্তার’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠলেও এর বিরুদ্ধে জোরালো আইনি পদক্ষেপের নজির ছিল না। তবে এবার থেকে ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের অপমান বা অবমাননা করলে নেমে আসতে পারে কঠোর শাস্তির খাড়া।

কমিশনের কড়া নির্দেশিকা ও আইনি বৈধতা

সম্প্রতি এই মর্মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে এনসিআইএসএম। কমিশনের নজরে এসেছে যে, BAMS, BUMS, BSMS এবং BSRMS-এর মতো স্বীকৃত ডিগ্রিধারী এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের প্রায়শই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া বা জনসমক্ষে ‘ভুয়ো ডাক্তার’ বলে আক্রমণ করা হয়। এর ফলে তাঁরা তীব্র সম্মানহানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন।

এই বিষয়ে কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইন্ডিয়ান মেডিসিন সেন্ট্রাল কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭০ (IMCC Act) এবং এনসিআইএসএম অ্যাক্ট, ২০২০ (NCISM Act, 2020)-এর অধীনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্টেট কাউন্সিলে নিবন্ধিত চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে প্র্যাকটিস করার অধিকার রাখেন। নতুন এই আইনগত অধিকার ও স্বীকৃতি থাকার কারণে এই সমস্ত যোগ্য চিকিৎসকদের ‘কোয়্যাক’ বা ভুয়ো বলে দাগিয়ে দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

কমিশন আরও সতর্ক করেছে যে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম বা কর্তৃপক্ষ যদি প্রকাশ্যে এই ধরনের অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে, তবে তা এনসিআইএসএম আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে গণ্য হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসকমহলে খুশির হাওয়া

কমিশনের এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত রাজ্যের আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা। এই বিষয়ে অখিল ভারতীয় আয়ুর্বেদ মহাসম্মেলনের রাজ্য সভাপতি ডা. সুমিত সুর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এনসিআইএসএম অ্যাক্ট, ২০২০-তে স্পষ্ট বলা আছে যে আমরা চিকিৎসার অঙ্গ হিসেবে ফিট সার্টিফিকেট, ডেথ সার্টিফিকেট সহ আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট দিতে পারি। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা সংবাদমাধ্যম আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আমাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসায় এবং কড়া বার্তা দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ।” দেশের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সম্মান জানাতে এবং চিকিৎসকদের আইনি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ এক ঐতিহাসিক মোড় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *