“বিএড-টেট লাগবে না!” সরকারি স্কুলেই শিক্ষকতার সুযোগ, বিরাট ঘোষণা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের

সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ এবং আধুনিক করে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এবার থেকে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে শুধু স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকাই নন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত ব্যক্তিরাও পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁদের জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কেন্দ্র সরকারের জনপ্রিয় ‘বিদ্যাঞ্জলি’ (Vidyanjali Scheme) কর্মসূচি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দপ্তরের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি পড়ুয়ারা বইয়ের বাইরের বাস্তব জ্ঞান অর্জনের দারুণ সুযোগ পাবে।
যোগ্যতার মাপকাঠি ও কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই প্রকল্পের আওতায় সরকারি বা সরকার-স্বীকৃত স্কুলগুলিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পাঠদান করা যাবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম স্নাতক (Graduation) পাশ করলেই এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে।
বিশেষ শর্ত: এর জন্য বিএড (B.Ed) ডিগ্রি বা টেট (TET) পাস করা বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর নিজস্ব দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।
কারা অংশ নিতে পারবেন? অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক, প্রাক্তন সেনাকর্মী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, আইটি (IT) পেশাদার, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসৈবী সংস্থার প্রতিনিধিরা এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারবেন। এর মূল লক্ষ্য, পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে পড়ুয়াদের মধ্যে বিভিন্ন জীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তোলা।
অনলাইনে কীভাবে নাম নথিভুক্ত করবেন?
সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা যাবে।
১. প্রথমে বিদ্যাঞ্জলি পোর্টালে (Vidyanjali Portal) প্রবেশ করতে হবে।
২. সেখানে ‘Become a Volunteer’ অপশনে ক্লিক করে নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
৩. ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বর্তমান পেশা, মোবাইল নম্বর এবং পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।
৪. নিবন্ধন সফল হওয়ার পর নিজের পছন্দমতো জেলা ও বিদ্যালয় নির্বাচন করা যাবে।
৫. সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে উপযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠদানের অনুমোদন দেবেন।
শিক্ষামহলের প্রতিক্রিয়া: বিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের মধ্যে সমাজের অভিজ্ঞ ও দক্ষ মানুষদের নিয়ে আসার এই উদ্যোগকে শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষা আরও আধুনিক, গতিশীল এবং বাস্তবমুখী হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।