এক রাতে উত্তপ্ত কোচবিহার! তিন বাম দলের জেলা কার্যালয়ে তাণ্ডব, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তুলে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

এক রাতের ব্যবধানে রাজনৈতিক উত্তেজনায় চরম অশান্ত হয়ে উঠল কোচবিহার শহর। বুধবার গভীর রাতে শহরের তিনটি পৃথক বাম সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠল। সিপিএমের পাশাপাশি এসইউসিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা কার্যালয়গুলিতে এই তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে ভয়াবহ হামলার ছবি
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, একদল দুষ্কৃতী মোটরবাইকে চেপে এসে নির্দিষ্ট পার্টি অফিসগুলিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ঢিল ছুড়ছে। আকস্মিক এই হামলায় পার্টি অফিসগুলির জানলা ও দরজার কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি ও পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ।
কোন পার্টি অফিসে কী ঘটেছিল? এক নজরে:
সিপিএম অফিস আক্রমণ: সিপিএমের কোচবিহার জেলা কার্যালয়ের পাশাপাশি ফ্লেক্স ও গেটে ভাঙচুর চালানো হয়। সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মহানন্দ সাহা অভিযোগ করেন, দিন দুয়েক আগে গুঞ্জবাড়িতে তাদের কর্মসূচিতে হামলার পর থেকেই জেলাজুড়ে পার্টি অফিসগুলো নিশানা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে ধিক্কার মিছিলেরও ডাক দেয় সিপিএম।
এসইউসিআই কার্যালয়ে লুটপাট: বুধবার ভোররাতে এসইউসিআই-এর জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে। এসইউসিআই নেতা নেপাল মিত্র অভিযোগ করেন, “জয় শ্রী রাম স্লোগান দিতে দিতে বিজেপির দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালায়।” এই ঘটনার বিরুদ্ধেও কোচবিহারে তীব্র প্রতিবাদ মিছিল করে এসইউসিআই। কোতয়ালি থানায় ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ফরওয়ার্ড ব্লক অফিসে হামলা: বুধবার ভোররাতেও ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা কার্যালয়ে চার-পাঁচজনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রাক্তন বিধায়ক তথা ফরওয়ার্ড ব্লকের কোচবিহার জেলা সভাপতি দীপক সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে বড় আন্দোলনে নামবে দল।
কী বলছে বিজেপি ও পুলিশ প্রশাসন?
বাম দলগুলির সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ-সভাপতি বিরাজ বোস পালটা দাবি করে জানান, “তৃণমূল ও বামেদের একাংশ যারা বিজেপিতে যোগদান করতে চাইছে কিন্তু পারছে না, তারাই এই হামলা চালিয়েছে।” একইসঙ্গে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
কোচবিহার জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত ঘটনাটির গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।