দিখৌ নদীর জলের তোড়ে ভাসল আসামের গ্রাম! ঘরছাড়া শতাধিক পরিবার, রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮

আসামের শিবসাগর জেলার নাজিরা বিধানসভা কেন্দ্রের কমলছাপরি গ্রামে নেমে এসেছে এক চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়। নাগাল্যান্ডের দিক থেকে নেমে আসা দিখৌ নদীর জল হঠাৎ হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় গোটা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এলাকার শতাধিক পরিবার। বর্তমানে চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল কমলছাপরি গ্রামে?
হঠাৎ জলের আক্রমণ: গত ১৯ জুলাই দুপুর ৩টে নাগাদ হঠাৎ করেই গ্রামে নদীর জল ঢুকতে শুরু করে। জল এত দ্রুত বৃদ্ধি পায় যে, মানুষ নিজেদের বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাঁচানোর ন্যূনতম সুযোগটুকুও পাননি। জীবন বাঁচাতে শেষমেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে বাধ্য হন গ্রামবাসীরা।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কমলছাপরি গ্রামে প্রায় ১৫০টি পরিবার বসবাস করে। যার মধ্যে ১০০-র বেশি পরিবারের বাড়িঘর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ছাদ পর্যন্ত জলের নিচে চলে গিয়েছিল। জল নেমে যাওয়ার পর বর্তমানে ঘরের ভেতরে জমেছে কাদার পুরু আস্তরণ। এছাড়াও নদীর পাড় ভাঙনের ফলে বিপুল পরিমাণ চাষের জমি ভেসে গেছে, যা এখানকার মানুষের জীবিকাকে মারাত্মক সংকটে ফেলেছে।

স্বাস্থ্য সংকট ও সাহায্যের আকুল আবেদন
আপাতত ঘরছাড়া ও সর্বস্বহারা পরিবারগুলি বাধ্য হয়ে উঁচু কোনো স্থানে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে বা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র অভাব রয়েছে।

মরা গবাদি পশু এবং পচে যাওয়া নোংরা জলের দুর্গন্ধে চারপাশের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের কারণে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, যাঁদের অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন।

এই বিপদের দিনে রাজ্য সরকার, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণের জন্য আর্্তি জানিয়েছেন বন্যাদুর্গতরা। তাঁদের অবিলম্বে ত্রিপল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, জামাকাপড়, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের পরিকল্পনা প্রয়োজন।

গোটা আসামের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি
শুধু শিবসাগর একা নয়, গোটা আসাম জুড়েই বন্যাকবলিত এলাকার চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ জনে।

বর্তমানে আসামের ৭টি জেলা পুরোপুরি বন্যা কবলিত। জেলাগুলি হলো—শিবসাগর, চড়াইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ (মেট্রো)।

রাজ্যের ২১টি রেভিনিউ সার্কেল এবং ৫৫১টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবমিলিয়ে প্রায় ৩,০০,০৩১ জন মানুষ এই বন্যায় সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন।

এছাড়া বন্যা কবলিত জেলাগুলিতে প্রায় ২১,৫২৩.০৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যা রাজ্যজুড়ে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *