‘ওরা যাঁকে খুশি ডাকতেই পারে!’ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে এসেই মেজাজ হারালেন মদন মিত্র

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ED) কড়া জেরার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। কামারহাটি ও টিটাগড় পৌরসভায় ঘুষ নিয়ে মোট ১২৫ জনকে অবৈধভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলার তদন্তেই তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। শুধু মদন মিত্র নিজেই নন, তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্রকেও ইডির পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে তদন্তকারী অফিসাররা মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইস ও তথ্য উদ্ধার করেছিলেন। সেই সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতেই এদিন তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন নিয়েও ইডি আধিকারিকদের স্ক্যানারে রয়েছেন তিনি।
এদিন সকালে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মদন মিত্র। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, “আমি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। ইডি আমাকে ডেকেছে, সেখানে যা বলার আমি বলব।” তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, তদন্তকারী দল কী জানতে চাইবে তা তাঁর জানা নেই, তবে তিনি ও তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কেন্দ্রীয় সংস্থার একাধিকার প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “ওনারা অফিসিয়াল এজেন্সি, তাই যাঁকে খুশি মনে করবেন ডেকে পাঠাবেন।”
এদিকে দীর্ঘক্ষণ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি থাকতে থাকতে একপর্যায়ে মেজাজ হারাতে দেখা যায় এই প্রবীণ নেতাকে। সাংবাদিকদের অতিরিক্ত ভিড় ও প্রশ্নের জেরে বিরক্ত হয়ে তিনি বলেন, “আপনারা যে আমাকে যেতে দিচ্ছেন না, এরপর আমার দেরি হলে আমি বলব আপনাদের জন্যই ঢুকতে পারিনি।” রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, পরিবারের সদস্যদের ইডির নোটিশ পাঠানোর পরেই কামারহাটির এই নেতার শিবির বদল কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই জল্পনার মাঝেও নিয়োগ দুর্নীতির এই নতুন মোড় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।