ইডির তলবের আগেই মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ মদন মিত্র! রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা, কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের মাঝেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। একদিকে ইডির তলব, অন্যদিকে ঠিক তার আগের দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বিরোধীরা এই ঘটনার নেপথ্যে নানান রাজনৈতিক তাৎপর্য খুঁজতে শুরু করলেও, বিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কোনো প্রশংসাই কাউকে রক্ষা করতে পারবে না।
মদন মিত্রের মন্তব্যে কেন এই বিতর্ক?
বুধবার পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে ইইডি (ED)। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজিরা দেওয়ার ঠিক আগের দিনই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মুখ খোলেন তিনি।
সম্প্রতি এনডিএ-র একটি বৈঠকে নবগঠিত এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের সঙ্গে পৃথকভাবেও আলোচনা করেন। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মদন মিত্র বলেন, “রাজনীতি খরস্রোতা নদীর মতো। আজ মোদি তথা এনডিএ-কে আনুষ্ঠানিক ভাবে ধন্যবাদ জানালাম। আজ তো উনি নজির গড়েছেন, শাসক-বিরোধীকে এক সঙ্গে বসিয়ে দিলেন।”
মদনের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তরজা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সংস্থার জেরার মুখে পড়ার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশংসা কি নিছকই রাজনৈতিক সৌজন্য, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো গভীর বার্তা? যদিও এ বিষয়ে পরবর্তীতে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি মদন মিত্র।
কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “প্রশংসা বা নিন্দায় কিছু আসে যায় না। যে যা করেছে তাকে তার ফল ভোগ করতে হবে। উনি যদি কোনো অপরাধ না করে থাকেন, তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। কিন্তু বাংলার রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে অপরিসীম দুর্নীতি হয়েছে, তার সঙ্গে যারাই যুক্ত থাকবে, তাদেরকেই আইনের আওতাভুক্ত হতে হবে।”
মামলার মূল প্রেক্ষাপট
কামারহাটি পুরসভায় বেআইনিভাবে ১২৫ জনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে এই মামলার সূত্রপাত। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, তদন্তে এও জানা গেছে যে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি অংশ মদন মিত্রের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও আদালতে কোনো চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়নি। ইডি-র জেরায় মদন মিত্র কী তথ্য দেন এবং আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সমস্ত মহলের।