কলকা‌তা বন্দর থেকে সোজা নেপাল! প্রথম সরাসরি মালবাহী ট্রেনের ইতিহাস, ভারত-নেপাল বাণিজ্যে নতুন বিপ্লব!

ভারত এবং নেপালের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো। ক্যানোলা কনসাইনমেন্ট নিয়ে ৪০টি ওয়াগন বিশিষ্ট প্রথম সরাসরি বাণিজ্যিক কনটেইনার মালবাহী ট্রেন কলকাতা বন্দর থেকে সফলভাবে নেপালের বিরাটনগর কাস্টমস ইয়ার্ডে গিয়ে পৌঁছেছে। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, সংশোধিত ভারত-নেপাল রেল ট্রানজিট প্রোটোকল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা দুই দেশের সীমান্ত-পারাপার পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

ট্রান্সশিপমেন্টের ঝক্কি শেষ: কমবে সময় ও লজিস্টিকস খরচ
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এই সাফল্য নিয়ে জানান, নতুন পরিমার্জিত ব্যবস্থার অধীনে ট্রেন চলাচল অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এই নতুন ব্যবস্থার মূল সুবিধাগুলো হলো:

সরাসরি পরিবহণ: সীমান্তে কোনো গাড়ি পরিবর্তন বা অন্য যানবাহনে পণ্য ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ করার ঝামেলা আর রইল না।

খরচ ও সময় সাশ্রয়: কলকাতা বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই ট্রেন সরাসরি বিরাটনগরে পৌঁছানোর ফলে লজিস্টিকস ব্যয় যেমন বিপুল পরিমাণে কমবে, তেমনই পরিবহণে লাগা মূল্যবান সময়ও অনেকটা বেঁচে যাবে।

দক্ষতা বৃদ্ধি: সীমান্তে পণ্য উঠানো-নামানোর ঝক্কি কমায় সামগ্রিক কার্গো হ্যান্ডলিং অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ হবে।

২০২৩-এ মোদীর হাত ধরে শুভসূচনা, ২০২৫-এর চুক্তিতে সাফল্য
মূলত ভারতের যোগবনী এবং নেপালের বিরাটনগরের মধ্যে নির্মিত নতুন ব্রড-গেজ রেল সংযোগের ওপর ভিত্তি করেই এই ঐতিহাসিক সফলতা অর্জিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে সংশোধিত ‘লেটার অব এক্সচেঞ্জ’ (Letter of Exchange) স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির হাত ধরেই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই সরাসরি বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে আশা প্রকাশ করেছে যে, এই আন্তর্জাতিক সাফল্য আঞ্চলিক অর্থনীতিকে এক নতুন গতি দেবে। বিশ্বস্ত ও আধুনিক রেল পরিকাঠামোর মাধ্যমে ভারত ও নেপালের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে আগামী দিনেও এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত পরিষেবা অব্যাহত রাখা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *