বাঁকুড়া শালতোড়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে বিরাট সাফল্য! সাঁতরাগাছি থেকে ভিন রাজ্যে পালানোর সময় গ্রেফতার মূল সরবরাহকারী!

বাঁকুড়ার শালতোড়া বিস্ফোরণ মামলায় এক অন্যতম প্রধান বিস্ফোরক সরবরাহকারীকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বুধবার গভীর রাতে সাঁতরাগাছি স্টেশন চত্বর বা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দক্ষিণ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনে ওঠার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তার আগেই তাঁকে ছক কষে পাকড়াও করে এনআইএ-র বিশেষ দল। ধৃতকে আজ, বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট এনআইএ বিশেষ আদালতে পেশ করা হবে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: শালতোড়ার সেই ভয়ংকর বিস্ফোরণ
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৩০ অগাস্ট রাতে বাঁকুড়ার শালতোড়া থানার লাউপাহাড়ি এলাকায় এক অত্যন্ত তীব্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যা গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ওই আকস্মিক বিস্ফোরণে জয়দেব মণ্ডল (৫২) নামের এক স্থানীয় বাইক আরোহীর করুণ মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে সে সময় জানা গিয়েছিল, শুক্রবার সন্ধ্যার পর প্রচণ্ড জোরালো শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে যাওয়ার পর লাপাহাড়ি মোড়ের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় বেরিয়ে দেখতে পান, বাঁকুড়া-শালতোড়া রাজ্য সড়কের একপাশে বিস্ফোরণের জেরে আক্ষরিক অর্থেই কয়েক টুকরো হয়ে পড়ে রয়েছে একটি বাইক। রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছিলেন বাইকচালক জয়দেববাবু।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতায় জয়দেবের একটি পা হাঁটুর নিচ থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয়দের তৎপরতা ও সহায়তায় শালতোড়া থানার পুলিশ তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে শালতোড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও এনআইএ-র এন্ট্রি
এই রোমহর্ষক ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমে স্থানীয় পুলিশ ধনঞ্জয় ঘোড়ুই ও করিমুল খান নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীতে মামলার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্ত এগোতেই এই ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের এক বাসিন্দাকে নিউ টাউন থেকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একটি নির্দিষ্ট কনসাইনমেন্ট হিসেবে অত্যন্ত বিপজ্জনক ডিটোনেটর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাচার করছিলেন।

তদন্তের ধারা বজায় রেখে গত সপ্তাহে এই মামলায় বীরভূমের নলহাটিতেও বিরাট অভিযান চালায় এনআইএ। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ডিটোনেটর বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই ধৃতকে টানা জেরা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার রাতে সাঁতরাগাছিতে সফল অভিযান চালিয়ে এই বিস্ফোরক সরবরাহকারীকে জালে তুললেন তদন্তকারীরা। এই গ্রেপ্তারের ফলে শালতোড়া বিস্ফোরণ মামলার নেপথ্যে থাকা বড় কোনো চক্রের সন্ধান মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *