স্বাধীনতা দিবসে স্কুল পড়ুয়াদের প্যারেড বন্ধ! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশিকায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল

আসন্ন ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বৃষ্টিতে ভিজে কিংবা গরমে শিশুরা যাতে কোনোভাবেই অসুস্থ না হয়ে পড়ে, সে কথা মাথায় রেখে আগামী স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে স্কুল পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরকে এই সংক্রান্ত কড়া নির্দেশ প্রদান করেছেন তিনি।
তবে স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ বন্ধ থাকলেও কুচকাওয়াজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, এবার ১৫ অগস্ট রেড রোডের প্যারেডে অংশ নেবেন শুধুমাত্র কলেজ পড়ুয়ারা।
‘১ ঘণ্টার বেশি অনুষ্ঠান নয়’: নবান্নের বৈঠকে বার্তা
নবান্নের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্কুল পড়ুয়ারা চাইলে মাঠে উপস্থিত থেকে সাধারণ দর্শক হিসেবে অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করতেই পারে, কিন্তু তাদের দিয়ে দীর্ঘক্ষণ প্যারেড বা কোনো শারীরিক কসরত করানো যাবে না। এমনকি গোটা অনুষ্ঠানসূচি যাতে ১ ঘণ্টার বেশি না টানা হয়, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে বিগত বছরের অভিজ্ঞতাকেই তুলে ধরা হয়েছে। মূলত গত বছর স্বাধীনতা দিবসের দিন রেড রোডের অনুষ্ঠানে অঝোর ধারায় বৃষ্টিতে ভিজে একাধিক খুদে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তা ছাড়া তার আগের বছরগুলিতেও চূড়ান্ত মহড়ার সময় প্রবল গরমে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষার কথা ভেবেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
১৬ অগস্ট শুরু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’
স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতির পর্যালোচনার পাশাপাশি নবান্নের বৈঠক থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও বিরাট একটি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী ১৬ অগস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান ভারত দিবস’।
ওই বিশেষ দিনটিতেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। সরকারের মূল লক্ষ্য— যেসব সাধারণ নাগরিক কোনো কারণে কেন্দ্রীয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বিমার আওতায় আসবেন না, তাঁদের দ্রুত এই নতুন রাজ্য বিমা প্রকল্পের আওতায় নিয়ে এসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। রাজ্যের সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি পরিষেবার সুফল সহজেই পেতে পারেন, সে বিষয়ে সব দপ্তরকে দ্রুত সমন্বয় রেখে কাজ করার কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।