একসঙ্গে জোড়া সামুদ্রিক ঝড়ের তাণ্ডব? আতঙ্ক উড়িয়ে চরম সত্য জানাল ইসরো ও আইএমডি!

দেশজুড়ে টানা বর্ষণ আর মেঘলা আকাশ দেখে তৈরি হয়েছিল জোড়া সামুদ্রিক ঝড়ের আশঙ্কা। তবে সেই ভয় সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) এবং আবহাওয়া দফতর (IMD)। যৌথ ট্র্যাকিং রিপোর্টে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সমুদ্রে কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়নি; বরং স্থলভাগের গভীর থাকা একটি মাত্র নিম্নচাপের প্রভাবেই জল ঢালছে আকাশ।
ইসরোর ‘ইনস্যাট-৩ডিআর’ উপগ্রহে ধরা পড়ল আসল চিত্র
ইসরোর শক্তিশালী আবহাওয়া উপগ্রহ ‘INSAT-3DR’-এর ইনফ্রারেড ছবির সাহায্যে আবহাওয়াবিদরা পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করেছেন।
বৃষ্টির আসল ‘ইঞ্জিন’: স্যাটেলাইটের থার্মাল ইমেজে দেখা যাচ্ছে, মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম তাপমাত্রার ঘনীভূত বজ্রগর্ভ মেঘ বর্তমানে বঙ্গোপসাগর থেকে বহু দূরে ছত্তিশগড়, ওড়িশা এবং মধ্যপ্রদেশের ওপর অবস্থান করছে।
আরব সাগরের মেঘের জটলা: মহারাষ্ট্রের উপকূলে যে মেঘ দেখা যাচ্ছে, তা নতুন কোনও সমুদ্রঝড় নয়। মূল নিম্নচাপটি আরব সাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প টেনে এনে পশ্চিমঘাট পর্বতে ধাক্কা দেওয়ার ফলেই (Orographic lift) এই অতিবর্ষণের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্লথ গতিই বাড়াচ্ছে বিপদ!
আইএমডি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি (Deep Depression) স্থলভাগে ঢোকার পর থেকেই গতি হারিয়ে ফেলেছে। এটি বর্তমানে মাত্র ১২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ধীর গতিতে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরছে। এই ধীরগতির কারণেই একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত চালিয়েই যাচ্ছে এই সিস্টেম।
তবে স্বস্তির খবর হলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উত্তাল ভাব কেটে গিয়ে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত।
আগামী দিনে আবহাওয়া কেমন থাকবে?
আবহাওয়াবিদদের মতে, স্থলভাগের আরও গভীরে ঢুকে নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি হারাবে। ফলে আগামী কয়েকদিনে অতিভারী বৃষ্টির দাপট কমলেও দেশের একটা বড় অংশে আকাশ মেঘলা থাকবে এবং মাঝারি বৃষ্টিপাত জারি থাকবে।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা
সমুদ্র আপাতত শান্ত হলেও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে যেসব পাহাড়ি বা ঢালু এলাকায় মাটি আলগা হয়েছে, সেখানে ধস ও বন্যার পূর্বাভাস মেনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।