ক্লড এআই-এর সঙ্গে গোপনীয় চ্যাট চলে আসছে সরাসরি গুগল সার্চে! ডেটা লিককাণ্ডে ব্যবহারকারীদের মাথায় হাত!

এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ (Claude AI)-কে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে যেমন তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তেমনই বাড়ছে বড় ধরনের নিরাপত্তার উদ্বেগ। সম্প্রতি এমন একটি তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা এই এআই চ্যাটবটের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

ঠিক কী প্রকাশ্যে এসেছে?
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেড্ডিটে (Reddit) প্রকাশিত একটি স্ক্রিনশট থেকে এই বিশাল ত্রুটির বিষয়টি জানাজানি হয়। সেখানে দেখা গেছে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা ক্লড এআই-এর সঙ্গে যে সমস্ত ব্যক্তিগত কথাবার্তা বা আলোচনা চালাচ্ছেন, তা সরাসরি গুগল সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্টে চলে আসছে।

অর্থাৎ, কোনো ব্যবহারকারী চ্যাটবটের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে গোপনীয় আলোচনা করলে, সেই আলোচনার বিষয়বস্তু বা সার্চ রেজাল্ট জনসমক্ষে চলে আসছে এবং যে কেউ তা খুব সহজেই অ্যাক্সেস করতে পারছে। রেড্ডিতে প্রকাশিত এই লিক হওয়া তথ্যের মধ্যে বহু সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার অভ্যন্তরীণ তথ্য, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গোপন রেকর্ড, ক্রিপ্টো ওয়ালেটের ডিটেইলস, ফোন নম্বর এবং আরও বেশ কিছু সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য।

কেন ঘটছে এমন ঘটনা?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চ্যাটবটের ‘শেয়ার চ্যাট’ (Share Chat) অপশনের জন্যই মূলত এই বিপত্তি ঘটছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের চ্যাট লিঙ্কের মাধ্যমে অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। যেহেতু যেকোনো মাধ্যমে এই লিঙ্ক শেয়ার করা সম্ভব, তাই সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার সেগুলোকে ইনডেক্স করে ফেলছে এবং গুগল সার্চ রেজাল্টে সেই চ্যাটগুলো প্রকাশ্যে চলে আসছে। তবে ব্যবহারকারীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়াই কীভাবে এই চ্যাটগুলো সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সংস্থার সাফাই ও প্রযুক্তিগত যুক্তি
যদিও এই নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মানতে নারাজ ক্লডের প্রস্তুতকারক সংস্থা অ্যানথ্রপিক (Anthropic)। সংস্থার দাবি, ব্যবহারকারীরা ‘শেয়ার চ্যাট’-এর মাধ্যমে যে লিঙ্ক তৈরি করছেন, তা যখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন কমিউনিটিতে পোস্ট করা হচ্ছে, কেবল তখনই তা সার্চ রেজাল্টে দৃশ্যমান হচ্ছে। এর পেছনে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সিস্টেমের দুর্বলতা নেই বলেই দাবি করেছে সংস্থাটি।

প্রখ্যাত প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘টেকক্রাঞ্চ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থার এক মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ক্লড নিজে থেকে কোনো সংবেদনশীল ডেটা সার্চ ইঞ্জিনকে দেয় না। সার্চ ইঞ্জিনে যা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ব্যবহারকারীদের তৈরি সার্চেবল লিঙ্কের মাধ্যমেই হচ্ছে।”

তবে সংস্থার এই যুক্তিতে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ যে পুরোপুরি কাটছে না, তা বলাই বাহুল্য। তথ্য সুরক্ষার খাতিরে এই ত্রুটি দ্রুত সংশোধন না হলে এআই জগতের এই জনপ্রিয় চ্যাটবট বড় ধরনের আস্থার সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *