“এত ভালো বৈঠক অতীতে দেখিনি!” NDA-র ‘মঙ্গল মিলন’ সভা শেষেই উচ্ছ্বসিত কাকলি-শতাব্দী-সায়নীরা

তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরণের বিদ্রোহ ঘোষণা করে সদ্য গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপিআই (NCPI)-এর ব্যানারে আসা সাংসদরা কি চলতি বাদল অধিবেশনেই স্পিকার ওম বিড়লার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবেন? এই রাজনৈতিক জল্পনা ও উত্তেজনার মাঝেই মঙ্গলবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে মিলল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত। সংসদের লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই সারিতে বসে নজর কাড়লেন বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার।

এনডিএ বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের রাজকীয় অভ্যর্থনা

সোমবার রাতেই এনসিপিআই-এর অন্যতম নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তার ঠিক পরের দিনই মঙ্গলবার এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে দেখা গেল কাকলি ঘোষদস্তিদার, সায়নী ঘোষ, শতাব্দী রায় এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট মুখদের। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঠিক পাশেই কাকলির বসার আসন বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কেন্দ্রে মোদী সরকার এই দলত্যাগী সাংসদদের যথেষ্ট রাজনৈতিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এনডিএ জোটে তাঁদের খোলাখুলি স্বাগত জানানো হয়েছে।

কী বলছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার ও অন্যান্যরা?

বৈঠক শেষে সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আপ্লুত কণ্ঠে কাকলি বলেন, “এনসিপিআই ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। আমরা স্পিকারের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি নথি জমা দিয়েছি। ওঁরা আমাদের এনডিএ-র অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলেই তো আজ এই বৈঠকে ডেকেছেন। ২০১৪ সালের আগেও এমন সুসংবদ্ধ ও ভালো বৈঠক দেখিনি। আমরা এনডিএ-র সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে পেরে অত্যন্ত খুশি।” একই সুর শোনা গেছে অন্য সাংসদদের গলাতেও। শতাব্দী রায়ের কথায়, দেশের ভিশন এবং আগামী দিনে কী কী বিল আসছে, তা নিয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও সুসংবদ্ধ আলোচনা হয়েছে। সায়নী ঘোষ ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রথমবার এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দিয়ে তাঁদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

স্বীকৃতি প্রসঙ্গে বড় বার্তা

এনসিপিআই-এর লোকসভায় দাপ্তরিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে কাকলি স্পষ্ট জানান, দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া চলছে এবং স্পিকারের দপ্তরে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, এনসিপিআই সাংসদদের এই উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল এবং চলতি বাদল অধিবেশনে মোদী সরকারের সঙ্গে তাঁদের এই সখ্য যে বিরোধীশিবিরকে বড় ধাক্কা দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *