১ অগাস্ট থেকে রেলের তৎকাল টিকিট সিস্টেমে বদল, জেনেনিন কীভাবে বুকিং?

আপনি যদি কাউন্টারে গিয়ে তৎকাল টিকিট বুক করার কথা ভেবে থাকেন, তবে ১ অগাস্ট থেকে ভারতীয় রেলের নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রেলওয়ে রিজার্ভেশন কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন ও ভিড় কমানো এবং পুরো বুকিং প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করে তুলতে নতুন টোকেন ব্যবস্থা (Token System) চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিম মধ্য রেলওয়ে (WCR)।

নতুন টোকেন সিস্টেমে কীভাবে কাজ হবে?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তৎকাল টিকিট কাটতে কাউন্টারে পৌঁছানোমাত্র যাত্রীদের একটি নির্দিষ্ট টোকেন দেওয়া হবে। এর ফলে যাত্রীদের আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। টোকেন পেয়ে যাওয়ার পর নিজের পালা আসার জন্য তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে অপেক্ষা করতে পারবেন এবং সিরিয়াল অনুযায়ী সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে টিকিট বুক করতে পারবেন। আগে যেমন টোকেন নেওয়ার জন্য আলাদা এবং টিকিট কাটার জন্য আলাদা লাইনে দু’বার দাঁড়াতে হতো, সেই ঝঞ্ঝাট থেকে এবার মুক্তি মিলবে।

তৎকাল টিকিটের নতুন সময়সূচি ও টোকেনের সংখ্যা

রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন এই টোকেন পদ্ধতিটি তৎকাল টিকিটের নির্দিষ্ট সময়সূচির সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হবে:

  • এসি (AC) তৎকাল টিকিট: সকাল ৮:৩০ থেকে ৯:০০ পর্যন্ত টোকেন বিতরণ করা হবে।

  • নন-এসি (Non-AC) তৎকাল টিকিট: সকাল ৯:০০ থেকে ৯:৩০ পর্যন্ত টোকেন দেওয়া হবে।

  • টোকেনের সীমা: প্রাথমিকভাবে প্রতিটি রিজার্ভেশন কাউন্টারে এসি তৎকাল টিকিটের জন্য ১০টি এবং নন-এসি টিকিটের জন্য ১৫টি করে টোকেন দেওয়া হবে। তবে যাত্রীদের ভিড় এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে রেল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারে। সমস্ত টোকেনধারীদের টিকিট বুক হয়ে যাওয়ার পরেও যদি সিট খালি থাকে, তবে প্রচলিত নিয়মে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে বাকি যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারবেন।

টিকিট বুক করার সময় কোন কোন বিষয়ে খেয়াল রাখবেন?

কাউন্টারে তৎকাল টিকিট কাটতে যাওয়ার সময় কিছু জরুরি নথিপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক:

  • আপনার ছবিযুক্ত বৈধ পরিচয়পত্র (যেমন ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা অন্যান্য অনুমোদিত আইডি) অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন।

  • টিকিট কাটার সময় যাতে কোনো বিলম্ব না হয়, সেজন্য যাত্রীদের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আগে থেকেই একটি কাগজে লিখে প্রস্তুত রাখুন।

পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো নতুন কিছু সুবিধাও এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। রেলের এই নতুন ব্যবস্থার ফলে কাউন্টারের বিশৃঙ্খলা যেমন কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষ খুব কম সময়ে ও সহজে স্বস্তির সঙ্গে তৎকাল টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *