পুলিশের চরম ভুলেই বিপত্তি? বাজি বিস্ফোরণে থমকে গেল এলাকা, আতঙ্কে ঘরছাড়া সাধারণ মানুষ

দিনকয়েক আগেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নীলগঞ্জের নারায়ণপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বাজি ও বারুদ উদ্ধার করেছিল নীলগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। কিন্তু সেই উদ্ধার হওয়া বারুদ ও বাজি নিয়ম মেনে নিষ্ক্রিয় না করে একটি গোডাউনে মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠল। আর মঙ্গলবার সকালে সেই গোডাউনেই আচমকা আগুন লেগে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল পুরো এলাকায়। একের পর এক বাজি ফাটতে শুরু করায় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দুটি ইঞ্জিন।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ বাজি ও বারুদ উদ্ধার হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী সেগুলি তৎক্ষণাৎ নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার কথা থাকলেও, তা না করে জনবসতিপূর্ণ এলাকার একটি গোডাউনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গোডাউনের বাইরে একটি ড্রামের মধ্যেও খোলা অবস্থায় বারুদ রাখা ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করেই সেই গোডাউনে আগুন লেগে যায় এবং মুহুর্মুহু বাজি ফাটতে শুরু করে। বিকট শব্দ ও প্রবল কালো ধোঁয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা

যে গোডাউনে ওই বিস্ফোরক বাজিগুলি রাখা হয়েছিল, তার ঠিক দোতলাতেই একটি পরিবার বসবাস করত। বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পেতেই তাঁরা কোনোমতে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। পাশাপাশি, আশেপাশের বাসিন্দারাও আতঙ্কে রাস্তায় নেমে পড়েন। দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও, পুলিশের এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন এ ভাবে বাজি ও বারুদ মজুত করে রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঠিক কী কারণে ওই গোডাউনে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *