‘ধৃত পড়ুয়াদের মুক্তি দিন,’-CJP-র মধ্যরাতের হুঙ্কারেই বাজিমাত!,মামলা প্রত্যাহারের বড় ঘোষণা

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সঙ্গে মঙ্গলবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের এক দীর্ঘ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের উপর থেকে সরকার সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সিজেপি (CJP)। দিল্লির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অসমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার না করা এবং উল্টে গ্রেপ্তারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেয় সংগঠন। শেষ পর্যন্ত সিজেপি-র কড়া হুঁশিয়ারি ও মধ্যরাতের বৈঠকের পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। একে একে বিহার ও অসম সরকার ধৃত নিট (NEET) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়।

বৈঠকের পর সিজেপি-র অবস্থান

ম্যারাথন বৈঠক শেষে CJP-র অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস হুঙ্কার দিয়ে জানান, “একজন আন্দোলনকারীকেও বিপদে পড়তে দেব না।” তাঁর কথায়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন রাজ্যে দায়ের হওয়া মিথ্যে মামলা নিয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। সংগঠনের প্রতিটি কর্মী ও সমর্থকের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে CJP স্পষ্ট করে দিয়েছে, সরকারের আশ্বাসে তারা ভরসা রাখলেও, যদি কোথাও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয় বা নতুন করে পুলিশি হয়রানি শুরু হয়, তবে তারা ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না।

একনজরে বড় আপডেটসমূহ:

  • কেন্দ্রের সঙ্গে মধ্যরাতের বৈঠক: CJP-র কড়া হুঁশিয়ারির পরেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র, যার জেরে গভীর রাতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

  • বিহার সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: CJP-র চাপের মুখেই বিহারের সরকার ঘোষণা করেছে, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত NEET-UG আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারোর বিরুদ্ধে আর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আন্দোলন ঘিরে হওয়া সমস্ত এফআইআর (FIR) ও নোটিস প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আন্দোলনের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া ৬৯৪ জনকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে নীতীশ সরকার।

  • অসম সরকারের ঘোষণা: বিহারের পথ অনুসরণ করে হিমন্ত বিশ্বশর্মার অসম সরকারও নিট আন্দোলনের জেরে ধৃত ১৩ জন আন্দোলনকারীকে নিঃশর্তে মুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। অসমে মোট পাঁচটি মামলা রুজু হয়েছিল।

  • দিল্লি পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাবি: অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ অভিযান চলাকালীন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মোট ২,৮৭৩ জন প্রতিবাদীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরে যুক্ত ছিল। পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে প্রায় ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, অস্ত্র আইন ও মাদক পাচারের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের পুরানো রেকর্ড রয়েছে।

নিট আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে চলা এই রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মাঝে সিজেপি-র এই দৃঢ় পদক্ষেপ আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *