পরিবারে সদস্য কম থাকলেই কি বাতিল হবে আয়ুষ্মান কার্ড? বড় ভুল ধারণা ভাঙল কেন্দ্র!

‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB-PMJAY) নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা ছিল যে, যে সমস্ত পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয়ের কম, তাঁরা বুঝি এই আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। তবে এবার এই বিভ্রান্তি পুরোপুরি দূর করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পরিবারে ছয়জনের কম সদস্য থাকা মানেই সেই পরিবারটি এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য নয়।
পরিবারের আকারের ওপর নির্ভর করে না যোগ্যতা
সম্প্রতি লোকসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক পরিষ্কার জানিয়েছে যে, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে যোগ্য পরিবারগুলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বয়স কিংবা লিঙ্গের ওপর কোনো ধরনের ঊর্ধ্ব বা নিম্নসীমা রাখা হয়নি। অর্থাৎ, কোনো পরিবারের সদস্য সংখ্যা দুই, তিন, চার কিংবা পাঁচজন হলেও তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন— যদি তাঁরা সরকারের নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেন।
সাধারণত, আর্থ-সামাজিক ও জাতিগত আদমশুমারি (SECC) ডেটা এবং সরকারের তরফে বিজ্ঞাপিত বিভিন্ন যোগ্যতার বিভাগের ওপর ভিত্তি করেই এই প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। ফলে কেবল সদস্য সংখ্যা কম রয়েছে বলেই যে কোনো পরিবারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে, এমনটা একেবারেই নয়।
৭০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য বিশেষ ছাড়
কেন্দ্রীয় সরকার আরও জানিয়েছে যে, দেশের ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী সমস্ত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের একটি বিশেষ সম্প্রসারণ বা আলাদা বিভাগ চালু করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এই বয়স্ক নাগরিকদের জন্য আয়, পরিবারের সুনির্দিষ্ট আকার কিংবা আর্থ-সামাজিক অবস্থার মতো কোনো কঠোর শর্তই প্রযোজ্য নয়। ফলে দেশের সমস্ত যোগ্য প্রবীণ নাগরিক এই প্রকল্পের আওতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুবিধা পাবেন।
প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসা
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই সরকারি স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল দেশের আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক পরিবারগুলিকে বড় কোনো রোগ বা গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসার সময় বিশাল খরচের হাত থেকে রক্ষা করা। এই প্রকল্পের অধীনে তালিকাভুক্ত যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে নিখরচায় প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারের এই স্পষ্টীকরণের ফলে দেশজুড়ে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের সেই আশঙ্কা এবং ধন্দ পুরোপুরি কেটে গেল, যাঁরা এতদিন ভাবতেন যে ছোট পরিবার হওয়ায় তাঁরা আয়ুষ্মান কার্ডের আওতাভুক্ত হবেন না।