সিজেপি-র ৩৬ দিনের আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ ধর্মেন্দ্র প্রধানের! পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি রুখতে আর কী আনছে কেন্দ্র?

দেশজুড়ে ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘ ৩৬ দিনের প্রবল আন্দোলনের মুখে অবশেষে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। পরীক্ষা ব্যবস্থার চূড়ান্ত স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের কোমর চিরতরে ভাঙতে আজ, সোমবার সংসদ ভবনে পেশ হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র টানা আন্দোলনে কোণঠাসা হয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার জালিয়াতি ও অসদুপায় রুখতে আইনের খড়্গ আরও কঠোর করতে চলেছে মোদী সরকার।

সংশোধনী বিলে কী কী কড়া শাস্তির বিধান থাকছে?
আজ লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এই সংশোধনী বিলটি পেশ করবেন। নতুন এই খসড়া বিলে প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অনিয়মকে জামিনঅযোগ্য ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। প্রধান বিধানগুলি হল:

কঠোর জেল ও জরিমানা: প্রশ্নফাঁস বা জালিয়াতির ঘটনায় কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিপুল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

দ্রুত বিচার ব্যবস্থা: বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে মাত্র ৪ মাসের মধ্যে মামলার শুনানি এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কড়া আইনি বাধ্যবাধকতা থাকছে।

সংঘবদ্ধ চক্রের ওপর কোপ: শুধু একা কোনো ব্যক্তি নয়; উত্তরপত্রে কারচুপি, সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ছড়ানো, সার্ভার বা কম্পিউটার হ্যাকিং কিংবা কোনো কোচিং সেন্টার বা পরীক্ষার পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এতে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তসহ অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোদী সরকারের জোড়া স্ট্র্যাটেজি ও হাই-পাওয়ার্ড টাস্কফোর্স
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এর আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। এই সমস্যা মোকাবিলায় কেন্দ্র এক জোড়া স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে:
১. আইনি কড়াকড়ি: আইন প্রণয়নের পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে ইনফোসিসের কো-ফাউন্ডার নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি ৬ সদস্যের হাই-পাওয়ার্ড টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
২. বিশেষজ্ঞ দল: এই বিশেষ টাস্কফোর্সে দেশের সেরা মগজদের রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন ইসরোর (ISRO) প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, গোয়েন্দা সংস্থা আইবি (IB)-র প্রাক্তন ডিরেক্টর তপন ডেকা এবং আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা ভি কামাকোটির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

পাশাপাশি, জালিয়াতির দায় এড়াতে এনটিএ (NTA)-র ৪৭ জন আধিকারিককে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষস্তরেও বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে।

—জেলে পাঠাতে হবে না? বিরোধী শিবিরের হুংকার

আইন সংশোধন ও কঠোর শাস্তির সংস্থান আনা হলেও বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের অভিযোগ, কেবল আইনের খসড়া বা শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে কোনো লাভ হবে না; দুর্নীতির মূল শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। এছাড়া আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে আজ লোকসভায় সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষেরা। সব মিলিয়ে, এই ঐতিহাসিক বিল পেশকে কেন্দ্র করে সোমবারের সংসদ অধিবেশন যে প্রবল উত্তপ্ত থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *