সকালেই কি তবে বসবে স্কুলের ক্লাস? জলপাইগুড়িতে বড় ঘোষণা করলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন!

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, গরম বা অন্যান্য কাজের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার থেকে স্কুলের ক্লাসগুলি সকালের দিকে করা যেতে পারে। রবিবার জলপাইগুড়ির এক অনুষ্ঠানে সেই প্রস্তাবে সায় দিলেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি জানান, যদি সকালে স্কুল পরিচালনা করা যায়, তবে স্কুল ছুটির পর শিক্ষকরা জনগণনার মতো অন্যান্য গুরুদায়িত্বও অনায়াসে সামলাতে পারবেন। পাশাপাশি, এদিনের এই সম্মেলন থেকে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের উপস্থিতি এবং স্কুল সংস্কার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন তিনি।
সকালের স্কুল ও জনগণনা প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্য
রবিবার জলপাইগুড়ির আর্ট গ্যালারিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) শিক্ষক সংগঠন ‘এবিআরএসএম’ (ABRSM)-এর জলপাইগুড়ি জেলা সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য পেশ করেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। শিক্ষক সমাজের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণনা ও স্কুলের কাজ একসঙ্গে সামলানো শিক্ষকদের জন্য বেশ চাপের হয়ে দাঁড়ায়। তাই সকালে স্কুল করার ব্যাপারে শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং এ বিষয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
একনজরে শিক্ষামন্ত্রীর অন্যান্য বড় ঘোষণাগুলি:
নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ: অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রতি বছর দুর্গাপূজার মতো নিয়মিত উৎসবের মেজাজেই এখন থেকে প্রতি বছর রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
ধুঁকতে থাকা স্কুলগুলির মার্জার: রাজ্যে অতীতে অবৈজ্ঞানিকভাবে গড়ে ওঠা বেশ কিছু জুনিয়র হাইস্কুল বর্তমানে পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রীর অভাবে ধুঁকছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই ধরনের স্কুলগুলিকে নিকটবর্তী হাইস্কুলের সঙ্গে যুক্ত বা মার্জ করে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত ৩ জন করে শিক্ষক নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
ফেস বায়োমেট্রিক ও উপস্থিতি: ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে উপস্থিতি নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতে এবার থেকে ফেস বায়োমেট্রিক (Face Biometric) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট জানা যাবে কোন পড়ুয়া কত দিন অনুপস্থিত থাকছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে উপস্থিতির হার অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখা হবে। পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকলে কোনো পড়ুয়াকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। শুধু ছাত্রছাত্রী নয়, শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও এই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে।
আধুনিক পরিকাঠামো ও পিএমশ্রী বিদ্যালয়: চলতি বছরেই প্রায় ৮০০টি স্কুলকে ‘পিএমশ্রী’ (PM SHRI) বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি, বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারের জন্য ১০০০টি স্কুলে ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ (Atal Tinkering Lab) তৈরি করা হবে, যা নীতি আয়োগের ইনোভেশন মিশনের অধীনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
মিড-ডে মিল: শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এবার ইসকন (ISKCON)-কেও মিড-ডে মিলের দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে পঠনপাঠনের ভারসাম্য বজায় রাখতে রাজ্য সরকার যে একাধিক কঠোর ও গঠনমূলক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে, রবিবারের এই সম্মেলন থেকে তার স্পষ্ট ইঙ্গিতই দিলেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন।