সংসদে আজ চরম বিস্ফোরণ! প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাইল কংগ্রেস?

নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার আগেই দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়া প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতে সম্পূর্ণ কোমর বেঁধে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর বিরোধীরা এবার সরাসরি নিশানা করতে চাইছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। অন্যদিকে, সমস্ত বাধা বিপত্তি ও বিরোধীদের হট্টগোলকে পাশ কাটিয়ে সোমবারই সংসদে প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর বিল পেশ করতে মরিয়া মোদী সরকার। আর এই বিল পেশের মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিক parliamentary যাত্রা শুরু হতে চলেছে প্রহ্লাদ যোশীর।
সংসদে জোরালো হচ্ছে বিরোধীদের আক্রমণ
কংগ্রেসসহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদরা দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা এবং প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে অবিলম্বে আলোচনার দাবি জানিয়ে নোটিস জমা দিয়েছেন। সপ্তাহের প্রথম দিনেই সংসদের দুই কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনার দাবি: কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে যে, সোমবারই সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দেশবাসী চায় প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশি দমন-পীড়নের সম্পূর্ণ নৈতিক দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা চান।
রাহুল গান্ধীর নিশানায় অমিত শাহ: আন্দোলন দমনে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রবিবারই একটি খোলা চিঠি লিখেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। চিঠিতে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধান হিসেবে তিনিই কি দিল্লি পুলিশকে আন্দোলনকারীদের ওপর ছররা গুলি বা পেলেট গান ব্যবহার এবং কঠোর হাতে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন?
ডিএমকের প্রতিবাদ: ডিএমকে-র রাজ্যসভার দলনেতা তিরুচি শিবম সংসদের অন্যান্য সমস্ত কার্যসূচী মুলতবি রেখে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশি নিপীড়নের অভিযোগের ওপর জরুরি আলোচনার দাবি তুলেছেন।
সরকারের মাস্টারস্ট্রোক: আজই পেশ হচ্ছে নতুন বিল
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরকে কোণঠাসা করতে এবং কড়া বার্তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত সরকারপক্ষও। আজকের অধিবেশনেই ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’-এর সংশোধনী একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র।
এই নতুন এবং কঠোর বিলে পরীক্ষার দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নজিরবিহীন শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে:
জরিমানা: পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বা দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।
কারাদণ্ড: অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে অপরাধীকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
সবমিলিয়ে, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ও নতুন মন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণ, কঠোর অ্যান্টি-লিপ বিল পেশ এবং বিরোধী জোটের উত্তাল প্রতিবাদের জেরে আজকের সংসদ ভবন এক ঐতিহাসিক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সাক্ষী থাকতে চলেছে।