আর্জেন্টিনা নয়, আসলে ব্রাজিলের নাগরিক লিওনেল মেসি! চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হতেই বিশ্ব ফুটবলে তুফান!

আর্জেন্টিনার জার্সিতে যাঁর জাদুকরি পায়ে বুঁদ হয়ে থাকে গোটা বিশ্ব, সেই লিওনেল মেসিকে নিয়ে সামনে এল এক অবিশ্বাস্য তথ্য। ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালীয় গবেষক ফিওরেঞ্জো সান্তিনির দীর্ঘদিনের গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে মেসির পারিবারিক শিকড়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ব্রাজিল!

গবেষণায় কী জানা গিয়েছে?
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ গবেষণা চালিয়ে গবেষক ফিওরেঞ্জো সান্তিনি দাবি করেছেন যে, মেসির পরিবারের আদি নিবাস ইতালি হলেও অভিবাসনের সূত্রে তাঁদের পূর্বপুরুষদের অনেকেই একসময় ব্রাজিলে বসবাস করতেন। এমনকি এই অভিবাসনের জেরে তাঁদের পারিবারিক পদবিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

গবেষকের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯৩ সালে মেসির বাবার প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ইতালি থেকে সপরিবারে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে চলে আসেন। অন্যদিকে, মেসির মায়ের দিকের প্রপিতামহ রানিয়েরি ককিয়েত্তিনির যাত্রাপথ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ‘ওয়াশিংটন’ নামের একটি জাহাজে চড়ে ব্রাজিলে পাড়ি দেন এবং ১৮৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের জাহাজ ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে এসে পৌঁছায়।

ঐতিহাসিক নথি ঘেঁটে গবেষক জানতে পেরেছেন যে, সে সময় ব্রাজিলে আসার পর অভিবাসীদের নামের বানান ও পদবি বদলে যাওয়ার চল ছিল। সেই নিয়মেই রানিয়েরি ককিয়েত্তিনির নাম বদলে রামিয়েরো কনকিয়েত্তিনি হয়ে যায়। সেই পরিবারেই জন্ম নেন আন্তোনিও কনকিয়েত্তিনি, যিনি সম্পর্কে লিওনেল মেসির দাদু। তাঁরই কন্যা সেলিয়া মারিয়া ককিয়েত্তিনির গর্ভে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন বর্তমান ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।

ইতালির সম্মান ও স্বীকৃতি:
ইতালিতে ককিয়েত্তিনি পদবির কোনো ঐতিহাসিক নথি না মেলায় গবেষক বিভিন্ন সরকারি নথি ও মেসির মায়ের আত্মীয়দের সহায়তায় এই চাঞ্চল্যকর ইতিহাস আবিষ্কার করেন। সান্তিনির এই গবেষণার উপর ভিত্তি করেই ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও শেকড়ের স্বীকৃতিস্বরূপ সাম্মানিক নাগরিকত্ব প্রদান করে। ফুটবল জাদুকরের এই গোপন ও রোমাঞ্চকর ইতিহাস সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া প্রেমীদের মধ্যে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *