রামমন্দিরে অনুদান তছরুপ কাণ্ড: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পরেই বড় পদক্ষেপ, বিশেষ SIT পুনর্গঠন যোগী সরকারের

অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তদন্তের গতি বহুগুণ বাড়াতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT (Special Investigation Team) পুনর্গঠন করল উত্তর প্রদেশ সরকার। সুপ্রিম কোর্টের কড়া মনোভাব ও স্পষ্ট নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসে তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ করেছে যোগী প্রশাসন। নতুন এই তদন্তকারী দলকে আরও শক্তিশালী করতে যুক্ত করা হয়েছে তিনজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান আইপিএস (IPS) অফিসারকে।
নতুন SIT-এর নেতৃত্ব ও গঠন
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্গঠিত এই বিশেষ তদন্তকারী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে আইজি (IG) কিরণ এস-এর কাঁধে। তাঁর সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত দলে কোমর বেঁধে নেমেছেন অযোধ্যার ডিআইজি (DIG) সোমেন বর্মা এবং এসএসপি (SSP) গৌরব গ্রোভার।
এর আগে লখনৌয়ের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ এবং অর্থ দপ্তরের সচিব নীল রতন কুমার-সহ বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক ও আমলা স্তরের আধিকারিক পুরোনো SIT দলে যুক্ত ছিলেন। তবে শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ছিল যে, প্রশাসনিক কর্তাদের বদলে আর্থিক তছরুপ ও প্রযুক্তিগত অপরাধ দমনে দক্ষ পুলিশ আধিকারিকদেরই এই মামলার তদন্তভার দেওয়া উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট
গত ১৩ জুলাই রামমন্দিরের অনুদান চুরির এই স্পর্শকাতর মামলায় নতুন করে SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, কারিগরি ক্ষেত্র এবং সাইবার বা আর্থিক চুরি সংক্রান্ত তদন্তে পারদর্শী পুলিশ কর্তারাই একমাত্র এই ধরনের জটিল মামলার গভীরে পৌঁছতে সক্ষম। একই সঙ্গে, আদালত নতুন এই দলকে আগামী ২৭ জুলাই অর্থাৎ আজই আদালতে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে।
অনুদান তছরুপের তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
রামমন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই গোটা দেশজুড়ে শোরগোল শুরু হয়। তদন্তের স্বার্থে মন্দিরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অনুদানের হিসাবের খাতা, টাকা গোনার নিয়মাবলী এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের নথি বারংবার পরীক্ষা করেছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে মন্দিরের একাধিক কর্মী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককেও।
প্রাথমিক তদন্তে টাকা গোনা এবং তা ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড়সড় গাফিলতি ও তছরুপের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। যার জেরে ইতিমধ্যেই পুলিশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করেছে। বর্তমানে পুনর্গঠিত নতুন আইপিএস অফিসারদের এই বিশেষ দলটি পুরনো দলের সংগৃহীত সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও নথি নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন করছেন। একই সঙ্গে, বিভিন্ন স্থানে সমান্তরাল তল্লাশি অভিযান চালানোর পাশাপাশি মন্দিরের ডিজিটাল ডাটা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের ওপর কড়া নজর রাখছেন তদন্তকারীরা।