‘জওয়ানদের বলিদান দেশের গর্ব!’ কার্গিল বিজয় দিবসে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষায় ভারতীয় সেনার অসীম সাহস, বীরত্ব এবং আত্মবলিদানের দিনটি সারা দেশের সঙ্গে স্মরণ করল গোটা দেশ। ২৬ জুলাই কার্গিল বিজয় দিবসে (Kargil Vijay Diwas) বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। পাশাপাশি, এই বিশেষ দিনে পাকিস্তানকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ (প্রাক্তন টুইটার) একটি বিশেষ বার্তা পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, “কার্গিল বিজয় দিবসে গোটা দেশ সেই বীর সেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়, যাঁরা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অসাধারণ সাহস ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের দেশের প্রতি অটুট ভালোবাসা এবং কর্তব্যনিষ্ঠা আগামী প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।” কঠিন পরিস্থিতিতেও জওয়ানদের বীরত্ব ও বলিদান সবসময় দেশের প্রধান গর্ব হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
“এবার কথা হবে POK নিয়ে”: রাজনাথ সিং
শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার পাশাপাশি পাকিস্তানকে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে এবার আলোচনার টেবিলে একমাত্র বিষয় হবে পিওকে (POK বা পাক অধিকৃত কাশ্মীর)। কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান অবৈধভাবে কাশ্মীরের একাংশ দখল করে রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসের মদত দেওয়ার বিরুদ্ধেও পাকিস্তানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
কার্গিল যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রতি বছর ২৬ জুলাই দিনটি ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। ১৯৯৯ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সেনা ও সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীরা নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে লাদাখের কার্গিল সেক্টরের বিভিন্ন কৌশলগত উচ্চতা দখল করে নেয়। সেই ভূখণ্ড পুনর্দখল করার জন্য ভারতীয় সেনা শুরু করে ঐতিহাসিক ‘অপারেশন বিজয়’।
এই অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনা ‘অপারেশন সাফেদ সাগর’ এবং ভারতীয় নৌসেনা ‘অপারেশন তলোয়ার’-এর মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পরিশেষে, প্রায় ১৬ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় চরম প্রতিকূল ও বরফাবৃত আবহাওয়ায় একটানা রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ২৬ জুলাই পাকিন্তানি অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে সমস্ত হারানো এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা সেই বীর জওয়ানদের স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর এই দিনটিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ভারতবাসী।