‘মুখ্যমন্ত্রীর নাতনি বলে কি আইন নিজের হাতে!’ এসবিআই ম্যানেজারকে চড় মেরে বিপাকে এমকে আলাগিরির মেয়ে

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) এক ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে সপাটে চড় মারার অভিযোগ উঠল তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির নাতনি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এমকে আলাগিরির মেয়ে কয়ালভিঝির বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের ভাইঝি। ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে যা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই ঘটনায় চেন্নাই পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঠিক কী হয়েছিল ব্যাঙ্কে?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসবিআই-এর আদিয়ার শাখাটি যে বাণিজ্যিক ভবনে অবস্থিত, তার মালিক হলেন কয়ালভিঝি। ওই ভবনের একটি ত্রুটিপূর্ণ বা অকেজো লিফট মেরামতের জন্য বারবার তাঁর প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর বাধ্য হয়ে ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হর্ষিন সিং সরাসরি কয়ালভিঝিকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ, এই অনুরোধেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য।

গত ২১ জুলাই এসবিআই-এর চিফ ম্যানেজার নামাচিভায়াম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন কয়ালভিঝি সোজা ব্যাঙ্কের শাখায় চলে আসেন এবং ম্যানেজার হর্ষিন সিংকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

প্রকাশ্যে সিসিটিভি ফুটেজ
ঘটনার দিনই ব্যাঙ্কের অন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে পরিষ্কার দেখা যায়, ম্যানেজারের কেবিনে আলোচনার এক পর্যায়ে বচসা চলাকালীন হঠাৎই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান কয়ালভিঝি। এরপর টেবিলের ওপার থেকে হাত বাড়িয়ে ম্যানেজার হর্ষিন সিংকে সপাটে চড় মারেন তিনি।

আইনি পদক্ষেপ
সিসিটিভি ফুটেজকে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে চেন্নাই পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ২৯৬(বি) (অশ্লীল ভাষা ব্যবহার), ৩২৯(৪) (অনধিকার গৃহপ্রবেশ), ১১৫(২) (ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানা) এবং ৩৫১(২) (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হয়েও সাধারণ এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের গায়ে হাত তোলার এই ঘটনায় গোটা রাজনৈতিক মহল ও ব্যাঙ্কিং সেক্টরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *