কীভাবে এল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নাম? অবাক করা নেপথ্য কাহিনি জানলে চমকে যাবেন!

প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হলো কেন্দ্র সরকার। সিজেপি-র সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। আর এই পুরো পটপরিবর্তনের পেছনে রয়েছে মাত্র ৭১ দিন আগে জন্ম নেওয়া একটি অভিনব রাজনৈতিক দল—’ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroচ Janta Party)! নির্বাচন কমিশনের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে আজ দেশের রাজনীতিতে এক আতঙ্কের ও প্রতিবাদের বড় মুখ হয়ে উঠেছে এই ‘আরশোলা’ বাহিনী।

কিন্তু কীভাবে জন্ম হলো এই দলের? পেছনের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। আদালত চত্বরে শুনানি চলাকালীন তিনি বলেছিলেন, বর্তমান বেকার তরুণ প্রজন্মের একাংশ ‘আরশোলার মতো’ আচরণ করেন। কাজ না পেয়ে তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থেকে আক্রমণ শানান। বিচারপতির এই মন্তব্য ঘিরেই দেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। যদিও পরে বিবৃতির ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়, তাতে চিঁড়ে ভেজেনি।

২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমির পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া শাখার সঙ্গে যুক্ত থাকা অভিজিৎ দীপকে বিচারপতির এই মন্তব্যের চরম প্রতিবাদ জানাতেই তৈরি করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সোশ্যাল মিডিয়াকেই প্রতিবাদের প্রধান হাতিয়ার করে গড়ে ওঠা এই দলে রাতারাতি লক্ষাধিক ফলোয়ার্স যুক্ত হয়। বিশেষ করে Gen Z বা তরুণ প্রজন্ম এই প্ল্যাটফর্মটিকে তাঁদের প্রতিবাদের সঠিক ভাষা বলে মনে করতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে বিজেপির প্রতি কটাক্ষ করতেই এই নামের সূত্রপাত হলেও, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে এই ‘ককরোচ’রা।

নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি না থাকলেও এই দলের পক্ষ থেকে একটি চোখধাঁধানো ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়। যেখানে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, দলবদলুদের ভোটে লড়তে না দেওয়া, অবসরের পর বিচারপতিদের রাজ্যসভায় বসতে না দেওয়ার মতো একাধিক সাহসী প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলন এবং এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র লাগাতার ডিজিটাল প্রতিবাদের জেরেই নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। শেষমেশ পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বর্তমানে গোটা দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ‘আরশোলা’ বাহিনী, যা নতুন প্রজন্মকে নতুন পথ দেখাচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *