“এবার শুধু কথা হবে POK নিয়ে!” কার্গিল দিবসে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে কি বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত দিলেন রাজনাথ?

কার্গিল বিজয় দিবসের পবিত্র মঞ্চ থেকে পাকিস্তানকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বার্তা দিলেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা—পাকিস্তানের সঙ্গে এবার দ্বিপাক্ষিক বা অন্য কোনও বিষয়ে নয়, কেবল পিয়োকে (POK) নিয়েই আলোচনা হবে। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। পাকিস্তান অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি অংশ জবরদখল করে রেখেছে বলেও কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের দিকে আঙুল
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, জঙ্গিদের মদত দেওয়া এখন পাকিস্তানের সরকারি নীতির একটি অংশে পরিণত হয়েছে। অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাক সেনার কোমর কীভাবে ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা, তা পুরো বিশ্ব দেখেছে। ভারত যদি সেই সময় যুদ্ধ থামিয়ে না দিত, তবে খোদ পাক সেনার অস্তিত্ব নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়ে যেত।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে জিরো টলারেন্স নীতি
তবে সাময়িক শিক্ষা নিলেও পাকিস্তান যে তার পুরনো স্বভাব বদলায়নি, তা ফের প্রমাণ হয়েছে সাম্প্রতিককালে। সীমান্তে লাগাতার অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে ভারতীয় সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাফ হুঁশিয়ারি—অনুপ্রবেশ কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। দেশের সুরক্ষায় ভারতীয় জওয়ানরা সদা সতর্ক রয়েছে এবং এমন কোনো চেষ্টা হলে কাউকেই একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না।
সুর চড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশও
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত এনএসজি কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, “পাকিস্তান ক্রমাগত অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে প্রক্সি ওয়ার বা ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, আর ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে—তা হতে পারে না। পাকিস্তান যেমন আচরণ করবে, তাকে ঠিক তেমনই যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। পাকিস্তান আমাদের দেশের যে ভূখণ্ড জবরদখল করে রেখেছে, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আজ হোক বা কাল, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই হবে, এ বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”