ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা কি জল্পনা বাড়াল? ছাত্র আন্দোলনের পর সংসদে আসছে কোন বড় ঝড়?

অবশেষে ছাত্র আন্দোলনকারীদের প্রবল চাপের মুখে বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan Resignation)। এই পদত্যাগের পরই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। তবে ছাত্র আন্দোলন সাময়িক থিতু হলেও, জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাতের রেশ যে কাটেনি, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিরোধী শিবিরগুলির পরবর্তী রণকৌশলে।
বিরোধীদের নতুন টার্গেট: প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে প্রাথমিক জয় হিসেবে দেখলেও এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নয় কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। তাদের দাবি, কেবল পদত্যাগ নয়, দেশের ছাত্রসমাজের কাছে সরাসরি ক্ষমা চাইতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। পাশাপাশি, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযান চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের উপর যে পুলিশি অত্যাচার চালানো হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে—এই দাবিতেও অনড় রয়েছে বিরোধী শিবির।
সোমবার সংসদে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল
চলতি সংসদীয় অধিবেশনেই আজ সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত কঠোর শাস্তিমূলক বিধান সম্বলিত বিলটি পেশ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিল পেশের সময় থেকেই কেন্দ্রকে আরও বেশি কোণঠাসা করতে আসরে নামবে বিরোধীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং যৌথ কৌশল (Floor Coordination) ঠিক করতে সোমবার সকাল ১০টায় সংসদ ভবনে বৈঠকে বসছেন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতারা।
বিজেপির পাল্টা কৌশল
অন্যদিকে, বিরোধীদের এই আক্রমণকে পুরোপুরি প্রতিহত করতে প্রস্তুত শাসক শিবিরও। কংগ্রেস তথা ইউপিএ জমানা এবং বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে ঘটে যাওয়া প্রশ্নফাঁস ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার খতিয়ান সামনে এনে পাল্টা আক্রমণ শানানোর ছক কষছে বিজেপি। প্রশ্নফাঁস রোধে আনা নতুন সংশোধনী বিলের উপর আলোচনার সময় বিরোধীদের এই অস্ত্রেই ঘা দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
নতুন ইস্যু: রাম মন্দির বিতর্ক ও মুলতবি প্রস্তাব
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং প্রশ্নফাঁস ইস্যুর পাশাপাশি এবার ‘রাম মন্দিরের চুরির’ প্রসঙ্গটিকেও সংসদে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে সমাজবাদী পার্টি (SP) এবং কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধীরা। এই সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই সংসদের উভয় কক্ষে মুলতবি প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন একাধিক বিরোধী সাংসদ। সোমবারের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে এই সমস্ত ইস্যুতেই চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।