অপারেশনের ধকল নিমেষে উধাও! চিকিৎসায় এই জাদুকরী উপায় আনল যুগান্তকারী বিপ্লব

শারীরিক সমস্যা দূর করে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন পেতে অনেক সময় শরীর থেকে ছেঁটে ফেলতে হয় অপ্রয়োজনীয় বা নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ। সফল অপারেশনের পর মানুষ যেমন সুস্থ হয়ে ওঠেন, তেমনই সুন্দরভাবে কাটাতে পারেন বাকি জীবনটা।

তবে ‘অপারেশন’ শব্দটির সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে একরাশ দুশ্চিন্তা ও বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা। আর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুরু হয় অস্ত্রপচারের পরবর্তী পর্যায়ে। যেখানে কাটা অংশ শুকিয়ে যাওয়া, অপারেশনের ধকল সামলানো, দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা এবং যেকোনো সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এই সমস্ত জটিলতার মোকাবিলায় ‘পোস্ট অপারেটিভ কেয়ার’ (Post-operative care) বা অস্ত্রপচার-পরবর্তী পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিচর্যা যত নিখুঁত ও উন্নত হয়, রোগীও তত দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে এক শক্তিশালী অনুঘটকের কাজ করে সঙ্গীত বা মিউজিক! এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন একদল গবেষক।

তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অপারেশনের পর রোগীকে যদি নিয়মিত সঙ্গীতের আবহে রাখা হয়, তবে তাঁর সেরে ওঠার গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। সঙ্গীতের জাদুকরী ছোঁয়ায় মানবদেহের কর্টিসল (Cortisol) হরমোনের মাত্রা দ্রুত নিচে নামে, যা রোগীকে মানসিকভাবে শান্ত করে এবং শারীরিক সুস্থতা ত্বরান্বিত করে।

ক্যালিফোর্নিয়ার নর্থ স্টেট ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিনের গবেষকরা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেছেন যে অস্ত্রপচার-পরবর্তী পর্যায়ে মিউজিকের ব্যবহার কতটা কার্যকরী। তাঁদের মতে, রোগী যখন অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে প্রথম জ্ঞান পান, তখন অনেক সময়ই তিনি বুঝতে পারেন না যে তিনি কোথায় আছেন। ঠিক এই সংকটময় মুহূর্তে রোগীর মনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দারুণ কাজ করে মিউজিক।

পাশাপাশি, অপারেশনের ধকল ও মানসিক চাপ অনেক সময়ই রোগীদের স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকরা জানাচ্ছেন, সঠিক সময়ে সঠিক সঙ্গীত এই সমস্ত মানসিক চাপ নিমেষে কমিয়ে রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *