‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়ে বিধানসভায় চরম উত্তেজনা! চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন বিজেপি বিধায়ক!

রাজ্য সরকারের আলোচিত ‘সেবাশ্রয়’ শিবির এবং তার সার্বিক কাজকর্মকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্যে। বিশেষ করে ফলতার একটি সেবাশ্রয় শিবিরের পরিকাঠামো, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিধানসভার অন্দরে ফুঁসে উঠেছেন বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পন্ডা। এই ক্রমবর্ধমান বিতর্ক ও উত্তেজনার জেরে আগামী শনিবার রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বিধায়কের বিস্ফোরক অভিযোগ

বিধানসভার অধিবেশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টি আকর্ষণ পর্বে দাঁড়িয়ে ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পন্ডা ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উগরে দেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন:

  • খেলার মাঠ দখল: বিধায়কের অভিযোগ, তাঁর বিধানসভা এলাকার স্থানীয় ছোট ছেলেমেয়েদের খেলাধুলোর একমাত্র খেলার মাঠটি জবরদস্ত দখল করে সেখানে সেবাশ্রয় প্রকল্পের স্থায়ী বা অস্থায়ী পরিকাঠামোর কাঠামো ফেলে রাখা হয়েছে। এর ফলে এলাকার ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজ খেলাধুলা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে।

  • মাটিতে ওষুধ পুঁতে রাখা: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন যে, অনেক জায়গায় নাকি সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে মাটির তলায় জীবনদায়ী ওষুধ নষ্ট করে পুঁতে দেওয়া হয়েছে।

  • চিকিৎসায় চরম গাফিলতি: সেবাশ্রয় শিবিরের চিকিৎসাসেবার নামে সেখানে নানা ধরনের অনিয়ম ও অপকর্ম চলছে। এমনকি ভুল চিকিৎসার জেরে কোনো কোনো রোগীর হাত বা পা পর্যন্ত কেটে বাদ চলে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তিনি। এই সমস্ত গুরুতর অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বিবৃতির দাবি জানান।

সরকারের প্রতিক্রিয়া ও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

বিজেপি বিধায়কের এই জোরালো প্রতিবাদের পর সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দিতে ওঠেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে স্বীকার করে নেন যে, বিভিন্ন সূত্র মারফত সরকারের কাছেও এই ধরনের কিছু বিক্ষিপ্ত অভিযোগ এসে পৌঁছেছে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু গুরুতর অনিয়মের কথাও তাঁদের প্রশাসনিক নজরে এসেছে।

মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আগামী শনিবার বিধানসভার অধিবেশনেই এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত সত্যিটা তুলে ধরে নিজের বক্তব্য পেশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন এই চাঞ্চল্যকর বিতর্কের জল কতদূর গড়ায় এবং শনিবার মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *