জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেটে জালিয়াতির দিন শেষ! বড়সড় কড়া নিয়ম আনল রাজ্য সরকার!

সাধারণ মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় নথি— জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট (Birth and Death Certificate) জালিয়াতির মতো বেআইনি ও দুর্নীতিমূলক কারবার চিরতরে রুখতে এবার অত্যন্ত কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এই পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং জালিয়াতির সমস্ত রাস্তা বন্ধ করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (Registration) নিয়মে একগুচ্ছ বড়সড় কাঠামোগত সংস্কারের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন আসছে?
রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য করে তুলতে এই নতুন নিয়মগুলি আনা হয়েছে। এর মধ্যে যে প্রধান পরিবর্তনগুলি আনা হয়েছে, সেগুলি হলো:
-
প্রধান ও চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব: এতদিন ধরে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান বা কার্যনির্বাহী আধিকারিকরা যে ‘নিবন্ধক’ (Registrar)-এর একচ্ছত্র দায়িত্ব পালন করতেন, তাঁরা এবার থেকে সেই ক্ষমতা ও দায়িত্ব থেকে সরে আসছেন। স্থানীয় স্তরে অনিয়ম রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।
-
জেলা স্তরে কড়া নজরদারি: এখন থেকে প্রতিটি রাজস্ব জেলার ‘ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর’ (DM & Collector) অত্যন্ত কঠোরভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম ও মৃত্যুর ‘জেলা নিবন্ধক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে জেলা স্তরে প্রশাসনিক কাজের আরও ভালো ও নিখুঁত কেন্দ্রীয় সমন্বয় বজায় থাকবে।
-
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কড়া বন্দোবস্ত: কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম বা মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটলে, সেই প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধনের ব্যবস্থাকে আরও পোক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ব্লকের ‘ব্লক মেডিকেল অফিসার অফ হেলথ’ (BMOH), গ্রামীণ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট এবং বড় মেডিকেল কলেজগুলির প্রধান বা সুপাররা সরাসরি ‘নিবন্ধক’-এর দায়িত্ব সামলাবেন।
প্রশাসনের এই নতুন ও কঠোর সংস্কারের ফলে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ঘিরে এতদিন ধরে চলা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারবার অনেকাংশেই নির্মূল হবে বলেই দৃঢ় বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট মহলের।