NEET কাণ্ডে জেন জ়ি-র ‘GRWM For Protest’ রিলসে তোলপাড় নেটদুনিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘GRWM’ বা ‘Get Ready With Me’ কনটেন্ট আজকের দিনে মোটেও নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ‘Get Ready With Me’ রিলস সবসময়ই নেটদুনিয়ায় দারুণ জনপ্রিয়। অফিস, কলেজ, পার্টি বা ডেটে যাওয়ার প্রস্তুতি— পোশাক বাছাই, মেকআপ, ব্যাগ গোছানো থেকে শুরু করে ‘ফাইনাল লুক’ ক্যামেরাবন্দি করাই এই ধরনের ভিডিওয় দস্তুর। কিন্তু সেই পরিচিত লাইফস্টাইল ফরম্যাটই এবার খাস প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে উঠল। নাম দেওয়া হয়েছে— ‘GRWM For Protest’।
NEET আন্দোলনে কেন এল ‘GRWM’ ট্রেন্ড?
NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবিতে এই মুহূর্তে রাজপথে নেমেছেন দেশের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। নিজেদের ক্ষোভ ও দাবি সমাজের সামনে তুলে ধরতে তাঁরা বেছে নিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়াকে। আর সেখানেই প্রতিবাদের অনন্য অঙ্গ হয়ে উঠছে এই ‘GRWM’ কনটেন্ট।
এই ধরনের ভিডিয়োগুলির শুরুতেই লেখা থাকে— ‘GRWM to attend the NEET paper leak protest’। এরপর ক্যামেরার সামনেই কেউ প্ল্যাকার্ডে স্লোগান লেখেন, কেউ ব্যাগে জলের বোতল গুছিয়ে রাখেন, তো কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে স্লোগান দিতে দিতে প্রতিবাদের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। সাধারণ GRWM-এর শেষ দৃশ্যে যেখানে ‘ফাইনাল লুক’ দেখা যায়, সেখানে এই প্রতিবাদী ভিডিয়োগুলির শেষে থাকছে বিশাল মিছিল, পোস্টার আর প্রতিবাদের চেনা ছবি।
কী দেখা যাচ্ছে এই ভাইরাল ভিডিয়োগুলিতে?
প্রতিবাদে যাওয়ার প্রস্তুতি পর্বকেই তরুণ প্রজন্ম এক্কেবারে লাইফস্টাইল ব্লগের কায়দায় তুলে ধরছেন:
-
ক্যামেরার সামনে স্টাইলিশ পোশাক বা জুতো বেছে নেওয়া।
-
ব্যাগে জলের বোতল কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভরে নেওয়া।
-
এর পরে শুরু হয় প্ল্যাকার্ড তৈরির ক্রিয়েটিভ পর্ব— হাতে রং-তুলি নিয়ে পোস্টার বানানো এবং তাতে সমসাময়িক মিম বা পাঞ্চলাইন লেখা।
-
অবশেষে বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিবাদস্থলের দিকে রওনা হওয়া এবং মিছিলের টুকরো ছবি ক্যামেরাবন্দি করা।
অর্থাৎ, ‘কী পরে যাচ্ছি’ থেকে শুরু করে ‘কেন প্রতিবাদে যাচ্ছি’— পুরো যাত্রাটাই একটি মাত্র রিলে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলছেন জেন জ়ি। শুধু ‘GRWM’-এই থেমে নেই ব্যাপারটি। পুলিশের তাড়া খেয়ে দৌড়নোর ভিডিওয় জনপ্রিয় মোবাইল গেম ‘Subway Surfers’-এর মিউজ়িক ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি, জনপ্রিয় রিলেশনশিপ মিম, যেমন— ‘Who Said I Love You First?’-কে ঘুরিয়ে তাতে যুক্ত করা হচ্ছে আন্দোলনের প্রসঙ্গ। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ‘Chak De India’, ‘Bhaag DK Bose’, বা ‘Gangnam Style’-এর মতো জনপ্রিয় গান। POV থেকে শুরু করে সিনেমাটিক এডিট— কোনো কিছু থেকেই পিছিয়ে নেই আজকের প্রতিবাদী যুবসমাজ।
প্ল্যাকার্ডেও ইন্টারনেটের মিম-সংস্কৃতি
প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ডেও স্পষ্ট ছাপ রয়েছে ইন্টারনেট কালচারের। দীর্ঘ চওড়া স্লোগানের পরিবর্তে ছোট, ব্যঙ্গাত্মক এবং নিমেষে ভাইরাল হওয়ার মতো লাইন বেছে নিচ্ছেন তাঁরা। কোনো পোস্টারে লেখা— ‘Even my ex hadn’t ignored me this much’, তো কোথাও আবার লেখা— ‘My Hinge matches reply faster than they do’।
শুধু তাই নয়, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান কিংবা বিশালাকার ডাইনোসরের কস্টিউম পরেও প্রতিবাদস্থলে হাজির হতে দেখা যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। এর ফলে রাস্তার চেনা আন্দোলন আর সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল মিম-সংস্কৃতির মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক নতুন মেলবন্ধন।
কেন এই ট্রেন্ড এবং কেন বদলাচ্ছে প্রতিবাদের ভাষা?
আজকের প্রজন্ম মূলত স্মার্টফোন-নির্ভর। বিনোদন থেকে শুরু করে জীবিকা— সোশ্যাল মিডিয়া তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ফলে একাধար প্রতিবাদ এবং অন্যদিকে পেশা বা রিচ বজায় রাখা— দুটোই একসঙ্গে সম্ভব হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম না থাকলে এই আন্দোলন হয়তো এত দ্রুত সর্বভারতীয় স্তরে ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারত না।
আন্দোলনের এই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের কারণে প্রতিবাদস্থলে না থেকেও অন্যরা রিল বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে মুহূর্তের খবর পেয়ে যাচ্ছেন। ট্রাইপড, গিম্বল, ড্রোন কিংবা লেপেল মাইকের সাহায্যে রেকর্ড করা এই ভিডিয়োগুলো ব্যক্তিগত লাইফস্টাইল কনটেন্টের সঙ্গে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদের ছবিকে এক সুতোয় বেঁধে দিচ্ছে।