জন্মদিনে বিরাট সারপ্রাইজ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা শুনে কেন হতবাক হলেন বিজেপি মন্ত্রী?

রাজনীতির ময়দানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং কথার লড়াই যতই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত স্তরে সৌজন্যের চিত্র মাঝে মাঝেই চমকে দেয় রাজনৈতিক মহলকে। সম্প্রতি এমন এক মজার এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী থাকলেন বিজেপি নেতা তথা বর্তমান রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। জন্মদিনের দিনে এক ব্যক্তির মুখে ‘এটা দিদি পাঠিয়েছে’ কথাটি শুনে প্রথমে রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

জন্মদিনের সেই অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত:

প্রতি বছর ৪ জুলাই বেশ ধুমধাম করেই পালিত হয় প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা মন্ত্রী তাপস রায়ের জন্মদিন। জন্মদিনের দিন শুভানুধ্যায়ী ও অনুগামীদের ভিড় লেগেই থাকে তাঁর বাড়িতে। সম্প্রতি নিজের জন্মদিনে এমনই এক হালকা মেজাজে বাড়ির নীচের ঘরে বসেছিলেন মন্ত্রী। ঠিক সেই সময়ই এক আগন্তুক তাঁর হাতে একটি ফুলের তোড়া ও গ্রিটিংস কার্ড তুলে দেন।

স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই মন্ত্রী সেই শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে যাবেন, ঠিক তখনই ওই ব্যক্তি ফিসফিস করে বলেন, ‘এটা দিদি পাঠিয়েছে’

চমকে যাওয়ার আসল কারণ:

এই কথাটি শোনামাত্রই হতবাক হয়ে যান তাপস রায়। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া এবং শাসক শিবিরকে নিয়মিত কড়া ভাষায় আক্রমণ করা মন্ত্রীকে খোদ ‘দিদি’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠালেন? রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মাথায় রেখে এই সংক্ষিপ্ত বার্তাটি তাঁকে সাময়িকভাবে বড়সড় ধাক্কা দেয়।

শেষ পর্যন্ত রহস্যের উন্মোচন:

তবে এই ধোঁয়াশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অবাক হয়ে কার্ডটি খুলে তাপস বাবু দেখতে পান, শুভেচ্ছা বার্তাটি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠাননি; সেটি পাঠিয়েছেন অন্য এক ‘দিদি’। আসলে কার্ডটি পাঠিয়েছিলেন মানিকতলার নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তথা প্রয়াত নেতা সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে

রাজনীতির মাঠে শ্রেয়া পাণ্ডে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও পারিবারিক সূত্রে এই সৌজন্যের নজির বেশ প্রশংসনীয়। তবে ওই আগন্তুকের রহস্যময় ফিসফিসানি এবং ‘দিদি পাঠিয়েছে’ কথাটির জেরে যে জন্মদিনের একটি চমৎকার ‘রং নম্বর’ বিভ্রাট তৈরি হয়েছিল, তা নিজেই এক আড্ডায় হেসে শেয়ার করেছেন মন্ত্রী তাপস রায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *