ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নাকি সরকারের মাস্টারস্ট্রোক? শনিবারের বৈঠকে কোন বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশ?

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে এক চুলও পিছু হটছে না ‘কক রোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে সিজেপি নেতৃত্বের অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকেও তাদের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যন্তর মন্তরে চলা তীব্র পড়ুয়া আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আগামী শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কী আলোচনা হলো?
কনস্টিটিউশন ক্লাবে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত ম্যারাথন বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, সরকার তাঁদের দুটি প্রধান দাবি মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে:
-
আর্থিক ক্ষতিপূরণ: NEET পরীক্ষায় মৃত পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
-
মামলা প্রত্যাহার: আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর ও আইনি মামলা নিঃশর্তে তুলে নেওয়া।
তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে আগামী শনিবার বিকেলের মধ্যে সরকার তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সিজেপি নেতারা। এই বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ করতে আগামী শনিবার তৃতীয় দফায় ফের সিজেপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক নজর
আন্দোলন প্রশমিত করতে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ শান্ত করতে কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে একাধিক জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জোরালো বার্তার পর, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির সংস্থান রেখে একটি নতুন বিলের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এখন আগামী শনিবারের বৈঠকে কেন্দ্র ঠিক কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং সিজেপি তাদের এই আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলের।