ব্রেস্ট ক্যানসার ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলাদের জন্য দারুণ খবর! GLP-1 ওষুধ কি জীবন বাঁচাতে পারে? নতুন সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

একটি নতুন রেট্রোস্পেক্টিভ বা পূর্ববর্তী তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব মহিলা স্তন ক্যানসার এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস—উভয় রোগেই আক্রান্ত, ক্যানসার ধরা পড়ার পর তাঁদের চিকিৎসায় যদি GLP-1 রিসেপ্টর এগনিস্টস (GLP-1RA) ডায়াবেটিসের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তবে তাঁদের সামগ্রিক বেঁচে থাকার হার (Overall Survival) অনেকটাই বেশি হতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন যে যেসব রোগী এই ডায়াবেটিসের ওষুধগুলি গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। যদিও এই গবেষণার ফলাফল GLP-1 ওষুধের বৃহত্তর স্বাস্থ্যগত উপকারের দিকটিতে নতুন আলো ফেলেছে, তবুও গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ব্রেস্ট ক্যানসারের ফলাফলের ওপর এর সরাসরি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন।
সমীক্ষার তুলনা এবং ফলাফল
আমেরিকার বিখ্যাত ‘সিটি অফ হোপ’ (City of Hope)-এ এই রেট্রোস্পেক্টিভ গবেষণাটি পরিচালিত হয়, যাতে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। গবেষকরা ক্যানসার ধরা পড়ার পর যাঁদের GLP-1 রিসেপ্টর এগনিস্টস দেওয়া হয়েছিল এবং যাঁদের দেওয়া হয়নি, তাঁদের মধ্যে তুলনা করার জন্য একটি প্রপেনসিটি স্কোর-ম্যাচড ডিজাইন এবং টু-ইয়ার ল্যান্ডমার্ক অ্যানালিসিস ব্যবহার করেন।
অংশগ্রহণকারীদের মিলিয়ে দেখার পর, চূড়ান্ত বিশ্লেষণে মোট ২২৬ জোড়া রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সামগ্রিক বেঁচে থাকার হার এবং মৃত্যুর ঝুঁকি মূল্যায়ন করার জন্য মাল্টিভেরিয়েবল কক্স প্রপোশনাল হেজার্ডস মডেল এবং ক্যাপলান-মেইয়ার সারভাইভাল অ্যানালিসিসের মতো পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
GLP-1 ব্যবহারকারীদের মধ্যে সামগ্রিক মৃত্যুর হার কম
বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে স্তন ক্যানসার ধরা পড়ার পর যেসব নারী GLP-1 রিসেপ্টর এগনিস্ট ব্যবহার করেছিলেন, এই ওষুধগুলোর সংস্পর্শে আসেননি এমন রোগীদের তুলনায় তাঁদের সামগ্রিক মৃত্যুর ঝুঁকি কম ছিল।
ফলো-আপ সময়ের মধ্যে মোট ৪৭টি মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৩০টি মৃত্যু ঘটেছে সেই সমস্ত রোগীদের মধ্যে যাঁরা GLP-1 চিকিৎসা পাননি।
অন্যদিকে, এই ওষুধ সেবন করেছিলেন এমন রোগীদের মধ্যে ১৭টি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন যে GLP-1RA ব্যবহার সামগ্রিক মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত (হেজার্ড রেশিও: ০.৫১; ৯5 শতাংশ কনফিডেন্স ইন্টারভাল: ০.২৮–০.০৩; p=০.০৩)।
প্রাথমিক স্তরের ব্রেস্ট ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই রকম ফলাফল
গবেষকরা যখন শুধুমাত্র স্টেজ I থেকে III ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত মহিলাদের ওপর ফোকাস করেন, তখনও এই ইতিবাচক যোগসূত্রটি একই রকম বজায় ছিল।
এই সাবগ্রুপে, GLP-1 রিসেপ্টর এগনিস্টের ব্যবহার আরও কম মৃত্যুর ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত ছিল, যার হেজার্ড রেশিও ছিল ০.৪৫ (৯৫ শতাংশ কনফিডেন্স ইন্টারভাল: ০.২৩–০.৮৫; p=০.০৩)। এটি ইঙ্গিত দেয় যে বেঁচে থাকার এই সুবিধাটি শুধুমাত্র বৃহত্তর অধ্যয়ন জনসংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ক্যাপলান-মেইয়ার সারভাইভাল অ্যানালিসিসেও দেখা গেছে যে সমস্ত রোগী GLP-1RA থেরাপি পেয়েছেন, তাঁদের সামগ্রিক বেঁচে থাকার হার উন্নত হয়েছে (লগ-র্যাংক p=০.০২)।
চিকিৎসাগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও গবেষণার প্রয়োজন
যদিও এই ফলাফলগুলি বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য সুবিধার ইঙ্গিত দেয়, তবুও গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে এই গবেষণায় নির্দিষ্টভাবে ব্রেস্ট ক্যানসারের কারণে হওয়া মৃত্যুর পরিবর্তে সমস্ত কারণে হওয়া মৃত্যু (All-cause mortality) মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে, বেঁচে থাকার এই উন্নতি সরাসরি ক্যানসারের ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত নাকি GLP-1 চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধার কারণে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গবেষক দল এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে GL কীভাবে ব্রেস্ট ক্যানসারের ফলাফল, দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকা এবং বিভিন্ন মৃত্যুর কারণগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে, তা সঠিকভাবে বুঝতে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।