ডিম ভাঙলে কুসুমের সঙ্গে এই সাদা সুতোটা দেখা যায়? জানেন কি এর আসল কাজ কী?

ডিম ভাঙার পর অনেকেই কুসুমের সঙ্গে লেগে থাকা সাদা সুতোর মতো একটি অংশ দেখে চমকে যান। কেউ কেউ আবার ভাবেন ডিমটি নষ্ট হয়ে গেছে, আর তাই সেটি তুলে ফেলে দেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই অংশটি নিয়ে দুশ্চিন্তার বিন্দুমাত্র কোনো কারণ নেই। বরং এটি ডিমের একটি স্বাভাবিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গঠন, যা ডিমের সতেজতারও দারুণ ইঙ্গিত দেয়।
ডায়েটিশিয়ানদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিমের ভেতরে কুসুমের সঙ্গে যে সাদা সুতোর মতো অংশটি দেখা যায়, তার বৈজ্ঞানিক নাম ‘চালাজা’ (Chalaza) বা ডিম্বমূল। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং প্রতিটি সুস্থ ডিমেরই একটি স্বাভাবিক অংশ।
১. চালাজার মূল কাজ কী?
চালাজা মূলত একটি ক্ষুদ্র নোঙরের (Anchor) মতো কাজ করে। এটি কুসুমকে ডিমের সাদা অংশের ঠিক মাঝখানে স্থির রাখতে সাহায্য করে। ডিম পরিবহন বা নাড়াচড়ার সময় কুসুম যাতে এদিক-ওদিক সরে না যায় বা সহজে ভেঙে না পড়ে, সেই ভারসাম্য বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে এই প্রোটিন তন্তু।
আসলে ডিমের ভেতরে এমন দুটি পেঁচানো চালাজা থাকে, যা কুসুমকে দুই দিক থেকে শক্ত করে ধরে রাখে। ফলে ডিম যতই ঝাঁকুনি খাক না কেন, ভেতরের কুসুম সুরক্ষিত থাকে।
২. এটি কি খাওয়া নিরাপদ?
অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে, সাদা এই অংশটি কোনো ত্রুটি বা ডিম নষ্ট হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো:
চালাজা সম্পূর্ণ খাওয়ার উপযোগী এবং নিরাপদ।
এটি মূলত প্রোটিন দিয়েই তৈরি, তাই এটি খেলে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না।
পুষ্টিবিদদের মতে, চালাজা ডিমের স্বাদ, গন্ধ বা পুষ্টিগুণের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
রান্নার সময় এটি সহজেই ডিমের সঙ্গে মিশে যায়, তাই আলাদা করে ফেলে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
৩. তাজা ডিম চেনার দারুণ উপায়
চালাজা শুধু ডিমের স্বাভাবিক গঠনই রক্ষা করে না, এটি ডিমের সতেজতা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দেয়।
সাধারণত তাজা ডিমে চালাজা বেশ স্পষ্ট ও শক্ত অবস্থায় দেখা যায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিম যত পুরনো হতে থাকে, এই অংশটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায় এবং কম দৃশ্যমান বা অদৃশ্য হয়ে পড়ে।
তাই ডিম ভাঙার পর যদি কুসুমের পাশে পরিষ্কারভাবে সাদা সুতোর মতো অংশ দেখতে পান, তবে বুঝতে হবে যে ডিমটি অত্যন্ত তাজা।
৪. কখন সতর্ক হবেন?
চালাজা দেখে ডিম নষ্ট হয়েছে বলে ভুল ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে ডিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোতে অবশ্যই নজর রাখবেন:
ডিম থেকে কোনো ধরনের টাক বা দুর্গন্ধ বের হলে।
ডিমের সাদা অংশ অস্বাভাবিকভাবে জলবৎ বা পাতলা হয়ে গেলে।
কুসুমের স্বাভাবিক রং ও গঠনে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে।
এই ধরনের লক্ষণ থাকলে সেই ডিম ব্যবহার না করাই শ্রেয়। পরের বার ডিম ভাঙার সময় কুসুমের পাশে সাদা সুতোর মতো অংশটি দেখলে ভয় না পেয়ে নিশ্চিন্তে রান্না করে খেয়ে নিন!