প্রবল বৃষ্টিতে জলের তলায় সন্দেশখালির গ্রামীণ হাসপাতাল! অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে ওষুধ নষ্ট, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

নাগাড়ে ও প্রবল বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ জলমগ্নতার ছবি ধরা পড়ল উত্তর চব্বিশ পরগনার সন্দেশখালির গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবায়। লাগাতার বৃষ্টির কারণে সন্দেশখালির খুলনা গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বর এবং হাসপাতালের ভেতরের প্রতিটি ঘর এখন জলের তলায়। বেহাল ও ত্রুটিপূর্ণ নিকাশি ব্যবস্থার জন্যই সাধারণ মানুষকে এই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

হাসপাতালের ভেতরে জল থইথই, নষ্ট হচ্ছে ওষুধ
খুলনা হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। হাসপাতালের অন্দরে চারিদিকে জল জমে একাকার হয়ে গেছে। জমা জলের কারণে ফ্লোরে রাখা জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী যেমন—স্যালাইন, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ওষুধের বাক্স পর্যন্ত ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও হাঁটুসমান জলের জেরে হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটেছে প্রসূতি এবং জরুরি বিভাগের রোগীদের নিয়ে। চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক মাথায় নিয়ে রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করতে হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক রোগ সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় তটস্থ হয়ে পড়েছেন চিকিৎসক ও নার্সসহ সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

ক্ষোভে ফুটছেন স্থানীয়রা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর আত্মীয় রণ্টু মাঝি আক্ষেপের সুরে জানান, “হাসপাতালের ভেতরে চারিদিক জলময় পরিস্থিতি। মেঝেতে জল থইথই করছে, এমনকি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ভেতরে পর্যন্ত জল ঢুকে গেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা পূর্ণেন্দু মৃধা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এই বেহাল অবস্থা চলছে। কোনো সঠিক পরিকল্পনা না করেই কাজ করার ফলেই আজ এই পরিস্থিতি। সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বর ভেসে যাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত নিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান করে চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিক করা হোক।”
আরেক বাসিন্দা স্বপন গাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে বহু সাধারণ মানুষ চিকিৎসা করাতে এসে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

কী বলছে প্রশাসন?
পাম্প চালিয়ে সাময়িকভাবে হাসপাতাল চত্বর থেকে জল নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হলেও, স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই যে ফের এই ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এই বিষয়ে সন্দেশখালির বিধায়ক সনদ সরদার বলেন, “শুধু খুলনা হাসপাতাল নয়, গোটা এলাকাই জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে সঠিক কাজ না হওয়ার ফলেই আজ আমাদের সরকার ও সাধারণ মানুষকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।” তবে তিনি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়ে জানান, “আমি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি, সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পান এবং অতি দ্রুত জল নিকাশ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মীরা ইতিমধ্যে তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।”

বর্তমানে পাম্প চালিয়ে জল কমানোর চেষ্টা চললেও, স্থায়ী নিকাশির কোনো সুরাহা হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *