সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ! তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিভাস ঘোষের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক ছানা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
ঘাটালের পতাপপুরের বাসিন্দা ও পেশায় ছানা বিক্রেতা শিশির মণ্ডলের অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোট ৭ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর বিভাস ঘোষ। চাকরির আশায় বুক বেঁধে বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা ওই কাউন্সিলরের হাতে তুলে দেন শিশির বাবু।
কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও ছেলের চাকরি তো মেলেনি, উল্টে পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে শুরু হয় নানা টালবাহানা। ধারদেনা করে এই টাকা জোগাড় করায় বর্তমানে পাওনাদারদের তীব্র চাপ ও হুমকির মুখে পড়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন ওই ব্যবসায়ী। স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায় অবশেষে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর আর্জি, তাঁর কষ্টের টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কী বলছেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর?
গোটা এই ঘটনায় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আংশিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর নিজেই। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কাউন্সিলর বিভাস ঘোষ ফোনে সাফ জানান, “অল্প কিছু টাকা চাকরির জন্য নিয়েছিলাম, সময়মতো তা ফেরত দিয়ে দেব।” শাসক দলের নেতার মুখে এহেন স্বীকারোক্তি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।