রাস্তার যানজট এড়িয়ে সোজা জলপথে যাতায়াত! বাংলায় বিরাট চমক দিয়ে শুরু হচ্ছে ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’ পরিষেবা

জলপথে যাতায়াত মানেই এতদিন কেবল সনাতন নৌকা কিংবা লঞ্চের ওপর ভরসা করতে হতো সাধারণ মানুষকে। তবে সেই চেনা ছক ভেঙে এবার বাংলায় শুরু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’ (Water Taxi) পরিষেবা। সড়কপথের তীব্র যানজট কমাতে এবং যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করতে এই যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
কোন কোন রুটে চলবে ওয়াটার ট্যাক্সি?
শুক্রবার ভাটপাড়ার গোলঘর পার্কে একটি খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। সেখানেই তিনি রাজ্যবাসীর জন্য এই বড় সুখবরটি শেয়ার করেন। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
প্রথম রুট: ব্যারাকপুর থেকে বাবুঘাট
দ্বিতীয় রুট: বাবুঘাট থেকে মেটিয়াবুরুজ
এছাড়াও এই রুটে ওয়াটার ট্যাক্সির পাশাপাশি আগামী দিনে দূরপাল্লার ভেসেল বা জলযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
যানজট এড়ানোর অভিনব কৌশল
শহর কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল ও শহরতলি এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রতিদিন কাজের সূত্রে জলপথে বা সড়কপথে যাতায়াত করতে হয়। অফিস টাইমে ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে অতিরিক্ত যানজটের জেরে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।
পরিবহণ দপ্তরের আশা, ওয়াটার ট্যাক্সি পরিষেবা চালু হলে সাধারণ মানুষের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও যানজট অনেকটাই হ্রাস পাবে।
দেশজুড়ে জলপথ পরিবহণের বিপ্লব
উল্লেখ্য, এর আগে ভারতে কেরলের কোচিতে প্রথম সফলভাবে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছিল। কোচির সেই অভূতপূর্ব সাফল্যের পর দেশের ১৮টি শহরে এই আধুনিক পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করে কেন্দ্র। তালিকায় অযোধ্যা, বারাণসী, গুয়াহাটি ও পাটনার মতো শহরগুলির নাম রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের জলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং আধুনিক করতে রাজ্য সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক অতীতে পরিবহণ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নেওয়া একাধিক জনমুখী ও আধুনিক পদক্ষেপের মুকুটে এটি আরও একটি নতুন সংযোজন।