আন্দোলন থামিয়ে বাড়ি যাওয়ার আর্জি সলমনের! সোনম ওয়াংচুককে কী বার্তা দিলেন ভাইজান?

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলন নিয়ে পরপর দ্বিতীয়বার মুখ খুললেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানোর ঠিক একদিনের মধ্যেই এবার তিনি ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ তুলে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককেও অনশন ভেঙে খাবার খাওয়ার অনুরোধ করেছেন অভিনেতা। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সলমনের বার্তা:
বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি বিশেষ ছবি পোস্ট করে সলমন খান লেখেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা এবং নিরাপত্তা। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলনে থাকার ফলে শুধু ছাত্রছাত্রী একা নন, তাঁদের অভিভাবকরাও চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবার আন্দোলনকারীদের শান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা এবং নিরাপত্তাই এখন আমাদের সবার আগে দেখা উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। আমার পূর্ণ বিশ্বাস, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই আমার সমস্ত ছাত্রছাত্রী ভাইবোনদের অনুরোধ করব, এবার তোমরা নিরাপদে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাও।”
সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ:
শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নন, এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক-এর প্রতিও একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সলমন। গত বেশ কিছুদিন ধরেই ছাত্রদের সমর্থনে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়াংচুক। তাঁকে উদ্দেশ্য করে অভিনেতা লেখেন, “সোনম, এবার যথেষ্ট হয়েছে বন্ধু। আর অনশন দীর্ঘায়িত করো না। আগামী দিনে যখনই প্রয়োজন হবে, তখন আবার লড়াই করার সুযোগ আসবে। এখন দয়া করে কিছু খেয়ে নাও। তুমি চাইলে আমি নিজেই আমার বাড়ি থেকে তোমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দেব।” উল্লেখ্য, সলমনের এই বার্তার পরেই সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহার করে নেন।
আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ না দেওয়ার আর্জি:
এর আগে মাত্র একদিন আগেই সলমন খান প্রকাশ্যে ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর একটি অপরাধ এবং দেশের ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে একটি উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে যে আন্দোলন করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে আন্দোলন চলাকালীন কিছু জায়গায় অনভিপ্রেত সহিংসতার ঘটনায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আহত ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সলমনের জোরালো মত, এই ছাত্র আন্দোলনকে কোনোভাবেই কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা বা রাজনৈতিক রঙ দেওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায়, এটি সম্পূর্ণভাবে ছাত্রছাত্রী এবং দেশের আগামী দিনের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত একটি বিষয়। তাই এই আন্দোলনের কৃতিত্ব বা দাবি আদায়ের লড়াই সম্পূর্ণভাবে ছাত্রসমাজেরই প্রাপ্য। তিনি আশাপ্রকাশ করেন, সরকারও ছাত্রছাত্রীদের এই যৌক্তিক দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও ত্রুটিহীন করে তুলবে।
বার্তার শেষে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে সলমন লেখেন, “শিক্ষাই যেন আগামী দিনের সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড হয়ে ওঠে। একদিন এমন সময় আসুক, যখন বিদেশ থেকেও ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে ভারতে ছুটে আসবে এবং আমাদের দেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিক্ষা-কেন্দ্রে পরিণত হবে।”
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে এই আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং গোটা পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সম্প্রতি ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ যখন চড়ে রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে সলমন খানের এই মধ্যস্থতামূলক বার্তা নতুন করে জাতীয় রাজনীতি ও বিনোদন জগতে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।