NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্ক: মোদীর মধ্যরাতের ভিডিও বার্তাকে তীব্র কটাক্ষ রাহুলের, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বাড়ছে চাপ

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়ে উঠল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও বার্তার তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, দেশের ছাত্রসমাজের প্রকৃত দাবিগুলিকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। একই সঙ্গে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-ও অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের জোরালো দাবি তুলেছে।

রাহুল গান্ধীর তোপ ও প্রধানমন্ত্রীর নতুন বিলের ঘোষণা:
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (X) আক্রমণ শানিয়ে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, শিক্ষার্থীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করলেও প্রধানমন্ত্রী সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান না নিয়ে মধ্যরাতে একটি “প্যাথেটিক ভিডিও” প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে তিনি আরও লেখেন, “শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করবেন না। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করুন, ছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান।”

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন যে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চিরতরে রুখতে অত্যন্ত কঠোর আইনি বিধান এনে আগামী সপ্তাহেই সংসদে একটি নতুন বিল পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। তিনি জানান, শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটির খুঁটিনাটি দিক নিয়ে আলোচনা হবে এবং সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম দিন, অর্থাৎ সোমবার লোকসভায় বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য, দ্রুত এই বিল পাশ করিয়ে পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।

সন্তুষ্ট নয় বিরোধী শিবির:
তবে সরকারের এই পদক্ষেপেও সন্তুষ্ট হতে নারাজ ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রানকা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে যদি সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়, তবে তা হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে অবিলম্বে অপসারণ করা। পাশাপাশি, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকও এক্স-এ একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত এই নতুন আইনের কার্যকারিতা ও সদিচ্ছা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *