“কড়া দর কষাকষির পরই…” মেদান্তা হাসপাতালে জেপি নাড্ডার হাতে অনশন তুলেই যা বললেন সোনম ওয়াংচুক!

অবসান ঘটল দীর্ঘ প্রতীক্ষার। কেন্দ্রের লিখিত আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে অবশেষে ২৬ দিনের আমরণ অনশন প্রত্যাহার করলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের হাত থেকে তরল খাদ্য গ্রহণ করে তিনি তাঁর ঐতিহাসিক অনশন ভাঙেন।

কেন ভাঙলেন অনশন? কী জানাল কেন্দ্র?
শুক্রবার সকালে নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সোনম ওয়াংচুক জানান যে, সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৬৫ জন সাংসদ তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। টানা দুই দিন ধরে সরকারের সঙ্গে কড়া দরকষাকষির পর অবশেষে কেন্দ্র লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়।

সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত প্রধান আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হলো:

সংসদে আলোচনা: দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা, এর দায়বদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

মামলা প্রত্যাহার: গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযান সহ সমস্ত শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনে সামিল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করা হবে না বলে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।

ক্ষতিপূরণ: NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশজুড়ে যে সমস্ত পড়ুয়ারা চরম পথ বেছে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেই সমস্ত শোকস্তব্ধ পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

মেদান্তা হাসপাতালে ঐতিহাসিক মুহূর্ত
গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জে.পি. নাড্ডা ও জীতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে যখন ওয়াংচুক অনশন ভাঙছেন, তখন তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আঙ্গমো। ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বিগত দুই দিন ধরে কড়া দর কষাকষি চলছিল। আমার লিখিত আশ্বাসের প্রয়োজন ছিল, এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র আজ আমাকে সেই লিখিত আশ্বাস দিয়েছে।” কেন্দ্রের এই লিখিত প্রতিশ্রুতির পরেই অবশেষে জট কেটে আন্দোলন স্থগিত রাখার বড় ঘোষণা করলেন এই প্রখ্যাত সমাজকর্মী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *